প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩


জেলা খবর

পহেলা বৈশাখের সঙ্গে কৃষকের জীবন ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলেই এদিন ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-১৪ ১৫:৩২:২৭

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা ২২ মিনিটে শহীদ মারুফ স্টেডিয়াম, টাঙ্গাইলের সমাবেশস্থলে পৌঁছে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে বললেন, “পহেলা বৈশাখের সঙ্গে কৃষকের জীবন ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে বলেই এদিন ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।”

 

প্রধানমন্ত্রীর ভাষায় বলেন, “পহেলা বৈশাখ বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী উৎসব, যা কৃষক ভাই-বোনদের জীবনযাত্রার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এ কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ দিনটিকে কর্মসূচি উদ্বোধনের জন্য বেছে নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১১টি উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আগামী ৫ বছরে দেশের ২ কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হবে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের সরকার এবং নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নে কাজ করছে। কৃষকদের স্বাবলম্বী ও সচ্ছল করে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।’ তিনি উল্লেখ করেন, দেশের কৃষক ভালো থাকলে পুরো দেশই ভালো থাকবে।”

 

‘কৃষি উন্নয়নের অংশ হিসেবে আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচি কৃষকদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং কৃষি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করে বলেন, “কৃষিনির্ভর এলাকাগুলোতে কৃষি ব্যবস্থাপনা জোরদারের পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ন্যায্যমূল্যে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করবে সরকার। পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

 

এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে। টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

 

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো, প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

 

প্রাক-পাইলটিংয়ের জন্য ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

 

প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন।


এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।

 

কার্ড পাওয়া কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকরা।