প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩


জীবন-ও-জীবিকা

শত কষ্টের মাঝেও মুখে লেগে আছে ম্লান হাসি, যদিও পা দুটো তার নেই, গল্পটা কষ্টের !

প্রকাশিত: ২০২৬-০১-৩১ ১৩:৪৯:৩০

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
পরিবারের সুখের জন্য ঢাকায় রিকশা চালাতেন। ২০১৮ সালে একদিন ঢাকা থেকে বাড়ি আসার পথে, সড়ক দুর্ঘটনা তার পা দুটো কেড়ে নেয়। প্রাণে বাঁচলেও থমকে যায় স্বাভাবিক জীবন। 

 

আজ মিনহাজুরের সবচেয়ে বড় চাওয়া—একটি হুইল চেয়ার। এই হুইল চেয়ার তার কাছে বিলাসিতা নয়, বেঁচে থাকার আকুতি, যার মাধ্যমে ঘর থেকে বের হয়ে জীবিকা নির্বাহ করবেন।

 

বলছি, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই তালুকদার পাড়ার মিনহাজুর রহমানের (৪২) কথা।

 

স্ত্রী, সন্তানকে নিয়ে দুই পা-বিহীন মিনহাজুরের সংসার খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয়, সেখানে হুইল চেয়ারের মতো ব্যয়বহুল জিনিস তার কাছে কল্পনারও বাইরে। প্রতিদিন জানালার পাশে বসে মিনহাজ তাকিয়ে থাকে বাইরে—রাস্তায় চলা মানুষের ভিড়ে যেন খোঁজেন নিজের হারানো জীবন।

 

কালাই সরকারি ময়েন উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাফসি তালুকদার বলেন, এদের মতো প্রতিবন্ধী যারা আছেন তারা এ সমাজের অসহায় ব্যক্তি। সমাজের বিত্তবান যারা, তারা যদি এগিয়ে আসত,তাহলে এই সমস্ত লোকের অনেক উপকার হতো।

 

দুই পা-বিহীন মিনহাজুরকে রাস্তায় সাহায্যকারী হেলাল মন্ডল বলেন, ‘ইনি একজন অসহায়, দুইটি পা নেই। বিভিন্ন জায়গায় সাহায্য-সহযোগিতার জন্য উনি এভাবে ঘুরে বেড়ায়, তার প্রচণ্ড কষ্ট হয়। তাই সমাজের বিত্তবানদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি যেন এই অসহায় ব্যক্তিকে সহযোগিতা করে এবং তাকে কেউ যদি একটা হুইল চেয়ার দেয় তবে তিনি খুব উপকৃত হতেন।’

 

দুই পা হারানো মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আমার বাড়ি মাত্রাই, গরিব ঘরের ছেলে। আমি ঢাকা রিকশা চালাতাম। রিকশা চালিয়ে জীবনযাপন করতাম। ঢাকা থেকে রিকশা চালিয়ে বাড়িতে আসার পথে আমার একটা দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় আমার দুটি পা হারিয়ে ফেলেছি। এখন মানুষের থেকে একটু সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে জীবনযাপন করছি। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি যদি আমাক একটা গাড়ি দিত চলাচলের জন্য, একটু সুবিধা হতো।’

 

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা বলেন, ‘আপনাদের মাধ্যমে একজন প্রতিবন্ধী সম্পর্কে জানতে পারলাম। আমি যতটুকু জানতে পেরেছি, উনি সমাজসেবা অফিস থেকে অলরেডি একটা প্রতিবন্ধী কার্ড পেয়েছেন। তার আরও কিছু প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, যেমন একটা হুইল চেয়ার। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।’

 

মিনহাজ কোনো দয়া নয়, চান সহযোগিতা। একটি হুইল চেয়ার তার পা-বিহীন জীবনে চলার জন্য খুবই প্রয়োজন। মানুষের একটু সহানুভূতি, একটু সহযোগিতাই পারে মিনহাজের পৃথিবীটা বদলে দিতে।