প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩


জেলা খবর

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি, ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

প্রকাশিত: ২০২৬-০১-১৮ ১৩:২০:২৬

News Image

সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলছে। এতে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি চিকিৎসা কিছুটা চালু থাকলেও ইন্টার্ন চিকিৎসক না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনরা।

 

আজ ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ রোববার সকাল থেকে কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা কাজে যোগ দেননি। তবে হাসপাতালের নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকেরা নিয়মিত সেবা চালু রেখেছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ে হাসপাতাল পরিচালকের সঙ্গে সকাল ১১টায় আবারও বৈঠকের কথা রয়েছে।


এই কর্মবিরতির সূত্রপাত হয় শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে। সেদিন হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


ঘটনার পরপরই ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন তাঁরা।


কর্মবিরতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে রোগী ও তাঁদের পরিবারের ওপর। হাসপাতালের পঞ্চম তলার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি এক নবজাতকের বাবা হবিগঞ্জের মো. রমজান মিয়া বলেন, “শুক্রবার রাতে মারামারির পর থেকেই ডাক্তার পাচ্ছি না। আমার ছেলের জন্ডিস ধরা পড়েছে। পরীক্ষা করানো হলেও দুই দিন ধরে রিপোর্ট দেখানোর মতো কোনো ডাক্তার নেই। আমরা গরীব মানুষ, বুঝতে পারছি না কী করব।”


গাইনি বিভাগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর স্বজন জুনেদ আহমদ বলেন, “আমার স্ত্রীর সিজার হয়ে ছেলে হয়েছে। আগের দেওয়া চিকিৎসার ওপরই এখন চলছে। নতুন করে ডাক্তার দেখাতে পারছি না, আজকে পর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখছি।”


চতুর্থ তলায় চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন সৌরভ বলেন, “অপারেশনের কথা ছিল, পরীক্ষা-নিরীক্ষাও হয়েছে। কিন্তু রিপোর্ট দেখানোর জন্য কাউকে পাচ্ছি না। ডাক্তার না থাকলে আমাদের মতো গরীব মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়।”


কর্মবিরতি শুরুর পর শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। প্রায় এক ঘণ্টা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এরপরই কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।


হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে আলোচনার চেষ্টা চলছে। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে কাজে ফেরার প্রশ্নই ওঠে না।