প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩


সোস্যাল মিডিয়া

রুমিন ফারহানাকে নিয়ে আমি কখনো কথা বলি নি

প্রকাশিত: ২০২৫-০৮-২৫ ১৭:৪১:৪৫

News Image

— ইমাম হোসাইন 
রুমিন ফারহানাকে নিয়ে আমি কখনো কথা বলি নি। কথা বলবার জন্য ভেতর থেকে প্রসঙ্গ আসে নি। আমি তাঁকে ফলো করি, তাঁর বক্তব্য শুনি। আজ তাঁকে নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, এটা সৌভাগ্য নয়— আমার জন্য দুঃখজনক। 

 

সিমোন দ্যা বোভোয়ার বলেছেন, নারী জন্মে নারী, হয়ে উঠে নারী, থাকে নারী। অর্থাৎ নারী কখনো নিজেই নিজেকে মানুষ মনে করতে চায় না। মানুষ বলতে কেবল পুরুষ বুঝায়। আমার প্রকাশনীয় বই, দর্শনের ঘোড়াতে বলেছি— ‘মানুষের ভীড়’ উচ্চারিত হলেই পৃথিবীর মানুষের মানসে, ‘পুরুষের ভীড়’ দৃশ্যকল্প উপস্থাপন হয়। কোথাও নারী সমাবেশে ভীড় দেখলে কেউ বলে না, ‘মানুষের ভীড়’। বলে ‘নারীর ভীড়’। কিন্তু পুরুষের সমাবেশে ভীড় দেখলে, সবাই বলে ‘মানুষের ভীড়’। 

 

রুমিন ফারহানাও নিজেকে মানুষ মনে করেন না। নারী মনে করেন। নারী মনে করা পাপ নয়, লীঙ্গ তো নারী, কিন্তু লীঙ্গই কেন পরিচয় হবে? এছাড়াও পৃথিবীতে, বিশেষ করে বদ্বীপে, নারী লীঙ্গ শৌর্যবীর্যের নয়, প্রতাপ প্রতিপত্তির নয়; নারী শব্দটিই দলিত, নিগৃহীতের পরিচয় বহন করে। এখানে বলা হয়, নারীকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন। নারীকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন— এই কথাতেই লুকিয়ে থাকে নারীকে অসম্মান করার গভীর ধড়িবাজি। বুঝানো হয়, নারী মানুষের চেয়ে আলাদা কিছু। সম্মান দিয়ে কথা বলুন, একথা যে-কারো ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য; লীঙ্গ দেখে সম্মান করতে হবে কেন? নারীকে সম্মান দিয়ে কথা বলুন, অর্থাৎ পুরুষকে অসম্মান করে কথা বলুন? সম্মান জিনিসটা আসে ব্যক্তির আচরণে। হোক সে নারী বা পুরুষ। অপরাধী, দুষ্কৃতকারী নারী হলেও গালি প্রযোজ্য; লীঙ্গ দেখে বিচার করা যাবে না।— এসমস্ত বিষয়ে আমার বইয়ে, ‘বদ্বীপের নারীবাদ’ অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। 

 

রুমিন ফারহানা আজ বললেন, “আমি তো নারী, আমার লোক কি চুপ করে বসে থাকবে”। আজ কোথাও সমাবেশে গোলমাল বেঁধেছে, রুমিন ফারহানাকে লোকজন ধাক্কা দিয়ে ফেলেছে, অপমান করেছে। তিনি এর প্রতিবাদ করবেন, প্রতিহত করবেন। অবশ্যই যৌক্তিক, আমি তাঁর পক্ষে। কিন্তু তিনি বললেন, তিনি তো নারী, এজন্য তাঁর লোক বসে থাকবে না। তিনি বলতে পারতেন না, আমি তো আইনজীবী, আমি রাজনীতিক, আমি মানুষ? মানুষ বলার দরকার নেই, এটা তো জানা কথা। বাকি দুটো বললেই হতো। কিন্তু তা না করে, তিনি তাঁর যোনির গুন্ডামী দেখালেন। যেমন পুরুষতন্ত্র শিশ্নের গুন্ডামী দেখায়। 

 

রুমিন ফারহানারা যদি দিনশেষে যোনির দ্বারা পরিচালিত হয়, এদেশের নারীকুলের কী অবস্থা হবে? তারা শাহবাগে সারাদিন আন্দোলন করবে, নারীবাদের। কিন্তু ঘরে গিয়ে স্বামীর শিশ্নের ছায়ায় আশ্রয় নিবে। এদেশের নারীবাদী নারীগুলোর দিকে তাকান, একই চিত্র পাবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে, তিন হাজার নারীকে পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, এরা নারীবাদী আন্দোলন করে, বাসায় ফিরে স্বামীর সেবাদাসীতে নিজেকে নিবেদন করে। না, এতে মিউচুয়াল কোনো প্রেম নেই। ঠেলায় পড়ে তারা এরকম করে। রুমিন ফারহানাকে ব্যতিক্রম মনে করতাম, আজকের পর সেটাও আর থাকল না।