প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৫-০৮-১৪ ১৯:১৮:০৬
আবদুল হক এর ওয়াল থেকে-
সাদাপাথর নিয়ে হঠাৎ দেখি হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। দেখছি আর মজা পাচ্ছি। সবচেয়ে মজার ঘটনা ঘটেছে কাল রাতে। সেনাবাহিনী পাথর আটক করে ফের ওই এলাকায় নিয়ে বিছিয়ে দিচ্ছে। এত বড় সরেজমিন কৌতুক শতাব্দীতে এক-আধটার বেশি দেখা যায় না।
এই পাথর কুড়ানোর জন্য ব্রিটিশরা দশ মাইল লম্বা রোপওয়ে বানিয়েছে। লোহার কাঁকড়া সেই পাথর কুড়িয়ে বাকেট বোঝাই করেছে। পাথরবোঝাই বাকেট লোহার দড়িতে ঝুলতে ঝুলতে চলে গিয়েছে ছাতক। পাথর ফেলে দিয়ে ফিরতি দড়িতে ঝুলে খালি বাকেট আবার ফিরে এসেছে। একেকটা বাকেট এক টনের মতো পাথর ধরে। ষাট-সত্তর বছরে কত লক্ষ বাকেট পাথর নিয়েছে, কেউ জানে না। তবু পাথর ফুরোয় নি।
আমার শৈশব কেটেছে ধলাই নদীর পারে। সাল ১৯৯৮-৯৯। প্রায়ই সকালবেলা নদীর পারে হাঁটতে বেরুতাম। কবিতার মালমশলা খুঁজতাম। প্রবল তোড়ের বিপরীতে শক্ত হাতে লগি ফেলে উজিয়ে চলত ঝাঁকে ঝাঁকে বারকি নৌকা। দেখতে ভালো লাগত আমার। নৌকাগুলো ফিরত কানায় কানায় পাথর বোঝাই করে। বালুচরে মাইক বসিয়ে বিরাট বাক্স নিয়ে বসে থাকত একদল লোক, তারা প্রত্যেক নৌকা থেকে দশ টাকা করে টোল আদায় করত। কত নৌকা চলে প্রতিদিন? জিজ্ঞেস করেছিলাম। একজন বলেছিল, আট হাজার। মানে প্রতিদিন আট হাজার টন পাথর নেমেছে। নেমেছে বছরের পর বছর ধরে। অতঃপর, পাথর কি ফুরিয়েছে?
এখন পাথর নামে সড়কপথে, বড় বড় ট্রাকে। পরিবহণের পরিমাণ অনেক বেশি। তাই হয়তো একটু টান পড়েছে। কিন্তু এটা বড় কোনো সমস্যা নয়। নদীতে ঢল নামলেই পাথর নামবে। এবার সিলেটে বৃষ্টি কম, ঢল নামেই নি বলতে গেলে, তাই পাথরও কম নেমেছে। বড় ঢল যখন নামবে─এবার না হলেও পরেরবার─ধলাই নদী আবার ধলা হয়ে যাবে পাথরে পাথরে। পাথর কুড়িয়ে নিয়ে বালুচরে বিছিয়ে দেয়া নেহাতই ছেলেমানুষি।
───────────────────────────────────────
⚪আবদুল হক ॥ #সাদাপাথর, #ভোলাগঞ্জ, #ধলাই ॥ ১৪-০৮-২০২৫।