রান উৎসব হবে সিলেটেও, ভাবনায় শিশির

সিলেট থেকে ইয়াসিন হাসান

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু বিপিএলের ছয়টি ম্যাচ হবে। 

নতুন বছরের শুরুতেই উৎসবে মাততে যাচ্ছে সিলেট। ক্রিকেট ফিরছে তাদের শহরে। সিলেটবাসীর জন্য এ যেন দ্বিগুণ আনন্দ। তবে বিপিএলকে তারা কতটা আপন করে নিতে পারে, সেই পরীক্ষা আগামী তিন দিন তাদের দিতে হচ্ছে।

বিপিএলে এখন পর্যন্ত গ্যালারি ভরেনি কোনো ম্যাচে। ঢাকায় কিংবা চট্টগ্রামে দর্শক খরায় ভুগেছে বিপিএল। এবার সিলেটে তিন দিনে ছয়টি ম্যাচ হবে। গ্যালারি ভরবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ সিলেটে এখন পর্যন্ত বিপিএল নিয়ে উন্মাদনা চোখে পড়েনি। নেই টিকিট নিয়ে হাহাকার। নেই কোনো কাড়াকাড়ি।

আজই মাঠে নামতে যাচ্ছে সিলেট থান্ডার। অথচ স্বাগতিক দল নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই স্থানীয়দের। এর বড় কারণ মাঠের পারফরম্যান্স। আট ম্যাচে মাত্র একটিতে জয় তাদের। শেষ চারে যাওয়া হচ্ছে না। তাই এখানে তিন ম্যাচ থাকলেও সিলেট থান্ডারকে নিয়ে কোনো মাতামাতি নেই।

সিলেট থান্ডার শহরের জিন্দাবাজার পয়েন্টের হোটেল নিরভানা ইনে উঠেছে। এর আগে এখানে সিলেট সিক্সার্স, রাজশাহী কিংসও ছিল। হোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের বরণ করে নিতে ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে আশপাশ ছড়িয়ে দেয়। অথচ এবার তেমন কিছুই নেই।

কারণ ওই পারফরম্যান্সই। আবার বড় তারকা না থাকাকেও বড় কারণ হিসেবে মনে করছেন অনেকে। গ্যালারিতে দর্শক আসুক আর না-ই আসুক, মাঠে রান উৎসব হবে; এমন নিশ্চয়তা দিয়ে রেখেছেন সিলেটের ভেন্যু ম্যানেজার জয়দেব।

সম্প্রতি সিলেটের মাঠ সংস্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। পুরোনো ঘাস তুলে নতুন করে ঘাস লাগানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা এ ঘাসগুলোর চারা বেশ নরম, কিন্তু মজবুত। ৯০ দিন হলো ঘাসগুলো লাগানো হয়েছে। তাই আউটফিল্ড কিছুটা মন্থর। তবে উইকেট নিয়ে কোনো চিন্তা নেই আয়োজকদের।

এখানকার মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর ফরহাদ খোরেশি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমরা এপ্রিল থেকে মাঠে কাজ শুরু করি। ধারাবাহিকভাবে কাজ এগিয়ে যায়। মাঠ উচুঁ করা হয়েছে। ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঘাসের চারা এনে লাগানো হয়েছে। এগুলোকে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার নাম দেওয়া হয়েছে। ৯০ দিন হলো ঘাস লাগানো হয়েছে। সেগুলো কাটার সময় এখনো আসেনি। তাই আাউটফিল্ড মন্থর হবে। তবে যে কয়েকটি উইকেটে খেলা হবে, সেগুলোতে রান হবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে যেমন রান হয়েছে, এখানেও রান হবে। মোট ৯টি উইকেট আছে। সেগুলো প্রতিনিয়ত পরিচর্যায় রাখা হচ্ছে।’

ভাবনায় আছে শিশিরও। সন্ধ্যার পর প্রতিদিনই আছে ম্যাচ। পাহাড় ঘিরে রেখেছে সিলেট স্টেডিয়ামকে। আশপাশে সব চা-বাগান। সন্ধ্যা ৬টা বা সাড়ে ৬টা থেকে শিশির প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।

তাদের দাবি, সন্ধ্যার ম্যাচগুলোতে শিশির প্রভাব রাখবে। কারণ গত কয়েকদিন এখানে প্রচুর শিশির পড়েছে। সামনেও এর ধারাবাহিকতা থাকবে। তাই ম্যাচের মজা অনেকটা নষ্ট করতে পারে শিশির। তবে আয়োজকরা বসে নেই। মাঠ শুকানোর কাজে স্থায়ী ২০ গ্রাউন্ডসম্যানের পাশাপাশি আরও ১৫ জন গ্রাউন্ডসম্যান নিয়েছেন তারা।

সিলেট পর্বে তিন দিনে ছয়টি ম্যাচ থাকলেও প্রতিটি ম্যাচ বেশ গুরুত্বের। প্লে-অফের চার দল নিশ্চিত হয়ে যেতে পারে এখানেই। সেরা চারে কারা থাকবে, কারা লড়াই থেকে ছিটকে যাবে, কারা শীর্ষে থাকবে; সব নিশ্চিত হতে পারে নয়নাভিরাম এ স্টেডিয়ামে।

 

সিলেট/ইয়াসিন/পরাগ



from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2QAB42o
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: