কেন এতো তৃষ্ণা পায়?

এস এম গল্প ইকবাল
সহজ কথা- তৃষ্ণা অনুভবের এক নম্বর কারণ হচ্ছে পর্যাপ্ত পানি পান না করা। পানি পানের প্রবণতা কম থাকলে আপনার জন্য পরামর্শ হচ্ছে, প্রতিবেলা খাবারের পর এক গ্লাস পানি এবং একবেলা থেকে আরেক বেলার মধ্যকার সময়ে দুই গ্লাস পানি পান করুন। প্রাথমিক পর্যায়ে এই নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে গেলে প্রতি দু’ঘণ্টায় এক গ্লাস পানি পান করতে স্মার্টফোনে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন। এভাবে আপনি পর্যাপ্ত পানি পানের অভ্যাস রপ্ত করতে পারবেন। তখন আর আপনার শরীর পানিশূন্যতায় ভুগবে না। এছাড়াও আরো অনেক কারণে আপনার অস্বাভাবিক তৃষ্ণা লাগতে পারে। যেমন-
ডায়েটে লবণ বেশি: লবণ কোষ থেকে পানি বের করে আনে ও শরীরকে যত বেশি সম্ভব পানি ধরে রাখতে বাধ্য করে। একারণে অত্যধিক লবণ খেলে মূত্রত্যাগের হার বা পরিমাণ কমে যায়। এসব পানি বঞ্চিত কোষ বেশি পানি পেতে মস্তিষ্ককে একটি রাসায়নিক বার্তা পাঠায়। ফলে অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভূত হয়। খাবারে লবণের ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করুন।
সকালে জগিং: যিনি বেশি ঘামেন, তার বেশি পানি পানের প্রয়োজন হয়, বলেন শিকাগোতে অবস্থিত ওয়েস্ট টাউন অ্যাডাল্ট ক্লিনিক অব দ্য এরি ফ্যামিলি হেলথ সেন্টারের মেডিক্যাল ডিরেক্টর পিটার মায়ক। যখন কেউ এক্সারসাইজ করেন, তিনি ঘাম নিঃসরণের মধ্য দিয়ে তরল হারান। তখন পানি পান অথবা তরল খাবার খেয়ে এই শূন্যতা পূরণ না করলে অত্যধিক তৃষ্ণা পাবে। আপনি কতটুকু পানি পান করবেন এজন্য একক কোনো ফর্মুলা নেই।
দীর্ঘসময় রোদে অবস্থান: আউটডোরে বেশি সময় সূর্যের নিচে থাকলে তৃষ্ণা পাওয়া অস্বাভাবিক নয়। আপনার যদি সারাদিন বাইরে কাটাতে হয়, সঙ্গে অবশ্যই পানির বোতল রাখুন।
সম্ভবত ডায়াবেটিস: কিছু রোগী ডায়াবেটিসকে ডিহাইড্রেশন বা শারীরিক পানিশূন্যতা ভেবে ভুল করেন। ডা. মায়ক বলেন, ‘ডিহাইড্রেশনের ক্ষেত্রে একজন লোকের শরীর তরল সংরক্ষণ করতে চায়। অন্যদিকে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা বৃদ্ধি পেয়ে ঘনঘন মূত্রত্যাগে বাধ্য করে। কারণ অতিরিক্ত রক্ত শর্করা মূত্রের মাধ্যমে বের হয়ে থাকে। আমার অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে তিনটি লক্ষণ দেখি: অত্যধিক তৃষ্ণা, অত্যধিক মূত্রত্যাগ ও ঝাপসা দৃষ্টি।’ আপনার এ তিনটি লক্ষণ থাকলে ডায়াবেটিস টেস্ট করতে বিলম্ব করবেন না।
জেরোসটোমিয়া: কিছু বিরল স্বাস্থ্য সমস্যায় মুখ শুষ্ক হতে পারে, বলেন ডা. মায়ক। চিকিৎসকদের ভাষায় এ অবস্থাকে জেরোসটোমিয়া বলে। মুখের লালাগ্রন্থি পর্যাপ্ত লালা উৎপাদন করতে ব্যর্থ হলে শুষ্কতা দূর করতে অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব হতে পারে। আপনার মুখে প্রতিনিয়ত শুষ্কতা অনুভব হলে আরো তথ্য জানতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
সম্ভবত রক্তশূন্যতা: শরীরের সর্বত্র রক্ত বহন করতে আপনার শরীর সুস্থ রক্তকণিকার ওপর নির্ভর করে। সাধারণত হালকা রক্তশূন্যতায় অত্যধিক তৃষ্ণা অনুভব করবেন না। কিন্তু এ অবস্থা তীব্র পর্যায়ে চলে গেলে একসঙ্গে তিনটি লক্ষণ লক্ষ্য করতে পারেন: অতিরিক্ত তৃষ্ণা পাওয়া, মাথা ঘোরার অনুভূতি ও ঘাম বের হওয়া।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ আপনার মুখকে প্রভাবিত করে শুষ্কতায় ভোগাতে পারে, বলেন ডা. মায়ক। উদাহরণস্বরূপ, অ্যান্টিহিস্টামিন, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ও হাই ব্লাড প্রেশারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডিউরেটিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মুখ শুষ্ক হতে পারে। আপনার অতিরিক্ত তৃষ্ণা দুশ্চিন্তা করার মতো হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।

ঢাকা/ফিরোজ/তারা


from Risingbd Bangla News https://ift.tt/2RaXOI6
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: