জুয়েল রানা,সখীপুর প্রতিনিধি : 

প্রধান সড়কে কাজ চলায়  সখীপুর ছোট সড়কে ভারী যান চলাচল করায় পাঁচটি সড়ক বিধ্বস্ত

সখীপুরে ছোট সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল করায় পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে যান চলাচলে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সখীপুর-গারোবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের মাত্র ৫০০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ চলায় ওইসব ছোট সড়ক  দিয়ে ভারী যান চলাচল করার কারণে সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়ে। ফলে স্থানীয় লোকজনের ওইসব সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় এলজিইডি কার্যালয় সূত্র জানায়, সখীপুর-গারোবাজার পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের সখীপুর মুখতার ফোয়ারা থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত ৫০০মিটার সড়কে আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ হচ্ছে।  খুবই ধীরগতিতে উন্নয়ন কাজ চলায় ওই সড়কে গত দুই মাস ধরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ওই বড় সড়কের বড় যানবাহনগুলো পাঁচটি ছোট সড়ক দিয়ে চলাচল করায় সড়কগুলো দুই মাসেই বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। বিধ্বস্ত হওয়া ওই পাঁচটি সড়ক হচ্ছে মুখতার ফোয়ারা থেকে বাটাজোর সড়ক, জেলখানা মোড় থেকে সৌখিন মোড়, উপজেলা গেট থেকে প্রফেসর কলোনী সড়ক, বাগানচালা থেকে কাহারতা সড়ক ও মুখতার ফোয়ারা থেকে তৈলধারা বাজার সড়ক।

ঢাকা-গারোবাজার ভায়া সখীপুর সড়কের বাস চালক আয়নাল মিয়া বলেন, মাত্র ৫০০মিটার সড়কের নির্মাণ কাজ চলায় বিকল্প সড়ক না থাকায় বাস ও ট্রাক চালকরা বিকল্প হিসেবে ইচ্ছেমত ছোট সড়ক ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে ঈদের আগে ও পরে ঢাকা-বঙ্গবন্ধুসেতু মহাসড়কে যানজট থাকায় জামালপুর, শেরপুরসহ উত্তরবঙ্গের বেশকিছু বাস- ট্রাকসহ ভারী যানবাহন গোড়াই থেকে সখীপুর হয়ে কালিহাতীর এলেঙ্গা দিয়ে চলাচল করায় সড়কগুলো নষ্ট হয়। এছাড়াও এসময় বৃষ্টি থাকায় সড়কের গর্তে পানি জমার কারণে সড়কে খানা খন্দকে পরিনত হয়।

সখীপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু বলেন, সখীপুর-গারোবাজার সড়কটি সখীপুরের মধ্যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই সড়কের উন্নয়ন কাজ করার আগে এলজিইডি বিভাগের কোনো পূর্ব পরিকল্পনা না থাকায় ওই সড়কগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এরজন্য তিনি এলজিইডি বিভাগের অজ্ঞতা ও অবহেলাকেই দায়ী করেন।
সখীপুর সরকারি মুজিব কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মানিক লাল ভৌমিক(সাবেক) বলেন, প্রফেসর কলোনী থেকে উপজেলা গেট সড়কটি খুবই সরু। বড় সড়কে নির্মাণকাজ চলায় বড় বড় বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহন আমার বাসার সামনের সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। ৪০০ মিটার এ সড়কটি  মাত্র এক মাসেই সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। খানা খন্দকের কারণে এখন ভ্যান-রিকশা নিয়েও ওই সড়ক দিয়ে চলা যায় না।

সখীপুর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী রোজদীদ আহমেদ বলেন, আমি সপ্তাহে দুইদিন সখীপুর এলজিইডি কার্যালয়ে বসি। শীগ্রই সখীপুর গিয়ে বিধ্বস্ত সড়কগুলো পরিদর্শন করে সংস্কার করার জন্য জরুরিভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও ওই ৫০০মিটার সড়কের কাজ যেন দ্রুত গতিতে হয় এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সড়ক উন্নয়নের ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম তরফদার বলেন, যতদ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করার চেষ্টা করব। তবে কাজ শেষ করার কমপক্ষে ২১ দিন পর্যন্ত ওই ঢালাইয়ের ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করা যাবে না।
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: