অর্থনীতি ডেস্ক : 
 
নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তন ! গ্রাহক হারাচ্ছে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক; আস্থায় রবি
 
সেল ফোনের নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনে গ্রাহক আস্থায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে রবি অজিয়াটা লিমিটেড। সেলফোন ব্যবহারকারীরা অপারেটর পরিবর্তন করে রবিতে বেশি আসছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে নির্ধারিত সেল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তন করেছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪৩ গ্রাহক। এর মধ্যে প্রায় ৬৮ শতাংশ শতাংশ গ্রাহক অন্য অপারেটর থেকে রবিতে এসেছেন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

২০১৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে সেল ফোন নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর পরিবর্তনের সুযোগ দেয় বিটিআরসি। এরপর থেকে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭১১ জন সেলফোন গ্রাহক অপারেটর বদলের আবেদন করেন। যার মধ্যে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৪৩ জন গ্রাহক নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ পেয়েছেন। আর বকেয়া পরিশোধ না করাসহ বিভিন্ন কারিগরি ত্রুটির কারণে ৮৫ হাজার ৩৬৮ গ্রাহকের অপারেটর বদলের আবেদন কার্যকর হয়নি।

বিটিআরসি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে সেলফোন গ্রাহকরা অন্য অপারেটর থেকে রবি নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছেন ৭২ হাজার ৫ জন।

একই সময়ে অন্য অপারেটর থেকে গ্রামীণফোনে এসেছেন ১০ হাজার ৪৯১ গ্রাহক, বাংলালিংকে এসেছে ২২ হাজার ৩২৫ গ্রাহক ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি টেলিটকে এসেছেন ১ হাজার ৫১২ গ্রাহক।

রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের নেটওয়ার্ক আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি শক্তিশালী। গ্রাহক আস্থার বড় কারণই এটা। সারা দেশে আমাদের শুধুমাত্র সাড়ে ৭ হাজার ৪জি টাওয়ার রয়েছে, যেটা অন্য অপারেটরদের চেয়ে বেশি। আমাদের  নেটওয়ার্ক ভালো বলেই গ্রাহকরা অন্য অপারেটর বদলে আমাদের সেবা নিচ্ছেন।

রবি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নতুন সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে। এরফলে গ্রাহকরা ৪জিতে ভয়েস কল করা যাবে।

এদিকে নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ দেওয়ায় গ্রামীণফোন ও বাংলালিংক ক্ষতির মুখে পড়ছে। অপারেটর বদলে এ দুই প্রতিষ্ঠানই গ্রাহক হারাচ্ছে।

বিটিআরসি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে অপারেটর পরিবর্তনে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক হারিয়েছে গ্রামীণফোন লিমিটেড। এ সময়ে কোম্পানিটির ৪৯ হাজার ৬৫৮ গ্রাহক অন্য অপারেটরে চলে গেছেন। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪০ হাজার ১২৩ গ্রাহক গ্রামীণফোন থেকে রবিতে গেছেন। আর বাংলালিংকে গেছেন ৮ হাজার ৯৯২ জন।

অপারেটর বদলের কারণে দেশের তৃতীয় মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক ৩৪ হাজার ২৫৬ গ্রাহক হারিয়েছে। এরমধ্যে গত তিন মাসে ৩০ হাজার ৪৩৪ গ্রাহক বাংলালিংক থেকে রবিতে গিয়েছেন। এছাড়া ৩ হাজার ৪৮২ গ্রাহক গ্রামীণফোনে চলে গেছেন। এ সময়ে রবি হারিয়েছে ২০ হাজার ৪০৬ জন গ্রাহক।

অন্য অপারেটর থেকে গত তিন মাসে ১ হাজার ৫২২ জন গ্রাহক রাষ্ট্রায়ত্ত মালিকানাধীন টেলিটক লিমিটেডে এসেছেন। বিপরীতে এ সময় ২ হাজার ২৩ গ্রাহক হারিয়েছে টেলিটক।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১ অক্টোব থেকে বাংলাদেশের সেলফোন ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে চালু হয় মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা। এতে গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক ও টেলিটকের গ্রাহকরা একে অন্যের নেটওয়ার্কে গিয়ে তাদের কলরেট ও ইন্টারনেট প্যাকেজ ব্যবহার করতে পারবেন, কিন্তু নম্বর থাকবে আগেরটাই।

একজন গ্রাহক একবার নির্ধারিত ফি দিয়ে অপারেটর বদল করলে ৯০ দিনের মধ্যে পুনরায় অপারেটর বদল করতে পারবেন না। প্রতিবার অপারেটর বদল করতে হলে সিম পরিবর্তন করতে হবে।

দেশে মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি বা এমএনপি সেবা চালুর লাইসেন্স পেয়েছে বাংলাদেশ ও স্লোাভানিয়ার যৌথ কনসোর্টিয়াম ইনফোজিলিয়ান বিডি টেলিটেক কনসোর্টিয়াম।

বর্তমানে বিশ্বের ৭২টি দেশে এই সেবা চালু রয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে ২০১১ সাল থেকে ও পাকিস্তানে ২০০৭ সাল থেকে এই সেবা চালু রয়েছে।
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: