স্টাফ রিপোর্টার :
 
ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কবল থেকে মুক্তি চায় পূর্ব টাঙ্গাইলবাসী
 
টাঙ্গাইলে কখনো মাইক্রোবাসে, কখনো মোটরসাইকেলে আবার কখনো সঙ্গবদ্ধভাবে অস্ত্র হাতে প্রতিনিয়ত ছিনতাই করছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা। তাদের হাতে জিম্মী হয়ে পরেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, পথচারী সহ সব বয়সের নারী-পুরুষ। প্রতিনিয়ত মাদক ও ছিনতাইয়ের চক্র তৈরী করে চালাচ্ছে তাদের কার্যক্রম। প্রতিবাদ করায় অনেকে হাত-পা হারিয়ে পঙ্গু জীবন-যাপন করছে।

সাম্প্রতি প্রায় অর্ধশতাধিক পথচারী, ব্যবসায়ী ও শ্রমিক তাদের কবলে পরে সর্বস্থ হারিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে। টাঙ্গাইল সদরের সাথে যোগাযোগের এক মাত্র সড়ক থাকায় তাদের কবলে পরেও কেউ মূখ খোলতে সাহস পাচ্ছে না। এ সব ছিনতাইকারী মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে মুক্তি পেতে ঘারিন্দা ও ছাতিহাটী ইউনিয়নবাসী প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

সরেজমিনে ঘারিন্দা ইউনিয়নের ঘারিন্দা, সুরুজ, বড়রিয়া, তারটিয়া ও ছাতিহাটী গ্রামে গিয়ে ছিনতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে এসব তথ্য জানা যায়। সরেজমিন পরিদর্শনে বার বার বেশ কিছু ছিতাইকারী ও মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীর নাম তথ্য ও ছবি উঠে এসেছে।

পরিদর্শকের তথ্য অনুযায়ী এসব চক্রের মূল হোতা রয়েছে সুরুজ গ্রামের মিরান ও তার ভাই ইবনে সিহাব। তারা একেক সময় একেক জায়গায় একটি দল তৈরি করে পাঠিয়ে মাদক ও ছিনতাইয়ের কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের দলের প্রধান হিসেবে রাখছেন একই গ্রামের বাবু, আরিফ, সুজাত, মেসি, মামুন , শাহজালাল ও ছাতিহাটী গ্রামের কাউসার আহম্মেদ। তাদের আন্ডারে প্রায় দুই শতাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারী রয়েছে। যারা ঘারিন্দা রেল ষ্টেশন, সুরুজ বাজার, সাবালীয়া বাইপাস, বড়রিয়া, তারটিয়া গোরস্থান মোড়, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ও ছাতিহাটীর বিভিন্ন গ্রামে মাদক ব্যবসার পাশাপাশি ছিনতাই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তাদের কাছে একাধিক পিস্তল, রিভলবার ও ধারালো অস্ত্র রয়েছে বলেও জানান ভুক্তভোগীরা। যেগুলো প্রতিনিয়ত ব্যবহার করছেন।

পৌর শহর এড়িয়ার বাহিরে কার্যক্রম চালানোর কারনে তাদের উপর প্রশাসনের তেমন নজর পরছে না। যার কারনে তাদের কার্যক্রমের পরিধি আরো বেড়েই চলছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেভ কামনা করে এসব মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে চায় পূর্ব টাঙ্গাইলবাসী।

এ ব্যাপারে ঘারিন্দা গ্রামের সেন্টু, মোস্তফা, আলিদ, মজিবর, সোহেল ও নারায়ন জানান, কুমুদিনী কলেজ গেট টু বল্লা রোডে প্রতিনিয়ন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। তার সাথে মাদকের ব্যবসাও পাল্লা দিয়ে চলছে। অনেক সময় নিজেদের আত্নীয় স্বজনরা এসব ছিনতাইকারীদের কবলে পরছেন। তবে খোঁজ নিয়ে জানতে পরছি মাদক ও ছিনতাইয়ের মূল হোতা সুরুজ গ্রামের। কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করে শত্রুতা সৃষ্টি করতে চাইনা। কারণ তাদের কাছে রয়েছে একাধিক অবৈধ অস্ত্র।

সুরুজ গ্রামের হাবুল, নহরুল, সাকের, আলতাফ, বসির, নাহিদ, কদম ও সুরেশ জানান, আমাদের সবার কর্মকরে খেতে হয়। তাই আমরা অনেক কিছু জানলেও বলতে পারবো না। আমাদের পরিবার ও সন্তান রয়েছে।

ছাতিহাটী গ্রামের আবুল, হালিম, মনসুর, সিকদার, নাছের, বড়রিয়া গ্রামের সুজাত, আরমান, জামিল, কালাম, তারটিয়া গ্রামের শুকুর, শরিফ, মোজাম্মেল, বাদল জানান, এলাকায় ক্রমশ বাড়ছে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের সংখ্য। এছাড়াও ঘটছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। তবে সুরুজ গ্রামে এর মূল আখড়া বলে আমরা শুনেছি।

এ ব্যাপারে সুরুজ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম নিলু মিয়ার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে পারবেন না জানিয়ে বলেন “অনেক কথা অনেক সময় বলা যায় না”।

এ ব্যাপারে ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন খান খোকন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উপরোক্ত ব্যাক্তিদের নামে মাদক সহ ছিনতাইয়ের বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। এ কারনে পুলিশ ও অন্যান্য প্রশাসনের লোকজন একাধিকবার অভিযান চালিয়েছিল কিন্তু কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তিনি দ্রুত তাদের গ্রেফতারের দাবী জানান।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালন মোঃ মিজানুর রহমান জানান, আমাদের কাছে যে সব অভিযোগ এসেছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পর্যাক্রমে সদর উপজেলাকে মাদক মুক্ত করা হবে।

টাঙ্গাইল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সায়েদুর রহমান জানান, মাদক ও নাশকতার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: