টাঙ্গাইলদর্পণ নিউজ ডেস্ক: যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। এই কথার যথার্থতা বর্তমানে সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে। এক সময় দেশে শিক্ষা ছিল শুধুমাত্র বিত্তবানদের জন্য। এমনকি মেয়ে শিশুদের জন্যও শিক্ষার কোনো অধিকার ছিলনা। কিন্তু গত প্রায় এক দশকে শিক্ষার সর্বস্তরেই চোখে পড়ার মতো অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
শিক্ষার এই ব্যাপক অগ্রগতি ও সক্ষমতা অর্জন অর্থনীতির ভিত্তিকেও করেছে মজবুত ও টেকসই, দেশকে বিশ্বের বুকে দিয়েছে পৃথক পরিচিতি। অগ্রগতি হয়েছে নারী শিক্ষায়। বর্তমানে শিক্ষা শুধু বিত্তবানদের মাঝে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষা ছড়িয়ে পড়েছে আজ পুরো বাংলাদেশে।
এক সময় দেশে নারী শিক্ষা ছিল শুধুমাত্র শহর কেন্দ্রিক। এমনকি যারা প্রাথমিক শিক্ষার জন্য স্কুলে যেত তারাও প্রাথমিক শিক্ষা শেষ হওয়ার আগেই ঝরে যেত। গত কয়েক দশক ধরে দেশের এই চিত্র পাল্টেছে। এই চিত্র এখন অতীত। বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দেশের নারী শিক্ষায় এসেছে অগ্রগতি। এই নারী শিক্ষার জন্য দেশ আজ বিশ্বজোড়া প্রশংসিত ও অনুকরণীয়।
বর্তমানে দেশের অনেক কোমলমতি শিশু বিশেষ করে মেয়ে শিশু স্কুলে যাচ্ছে। ব্যানবেইসের তথ্য মতে, ২০১২ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ৫১ শতাংশ ছিল মেয়েশিশু। বর্তমানে প্রায় শতভাগ মেয়েই এখন স্কুলে যাচ্ছে। মেয়েদের জন্য বিদ্যালয়ে যে পরিবেশ থাকা দরকার, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রাথমিকে শিক্ষকতায় ৬০ ভাগ নারী শিক্ষক নিয়োগদান করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সবার জন্য বৃত্তি থাকলেও, মাধ্যমিক পর্যায়ে শুধুমাত্র মেয়েদের জন্য বৃত্তি রাখা হয়েছে। বর্তমানে মাধ্যমিক স্তরে ছাত্রীদের শিক্ষা গ্রহণে দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার ভেতরে বাংলাদেশ সবার ওপরে অবস্থান করছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে শিক্ষায় ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের অগ্রগতি চোখে পড়ার মতো। নিরক্ষরতা দূরীকরণেও অর্জিত হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ সাফল্য। আগে অনেক মেয়ের আর্থিক সমস্যার জন্য পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়া হতো। নারী শিক্ষাকে বোঝা বলে মনে করা হত। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছেন। নারী শিক্ষার আরও প্রসার ঘটাতে এই অবৈতনিক শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত উন্নীত করা হয়েছে। দেশের নারীরা যাতে শিক্ষার আলোয় নিজের জীবনকে আলোকিত করতে পারে সেই পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান সরকার।
দেশের নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের জন্য সারাবিশ্বে আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ধ্বনিত হচ্ছে। দেশের নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য তাঁকে ভূষিত করা হয়েছে বিভিন্ন সম্মাননায়। যে দেশে নারীরা শিক্ষার অভাবে এক সময় চার দেয়ালে বন্দি থাকতো, আজ তারাই অবদান রাখছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে।

তথ্যসূত্র :  http://www.banglaramra.com
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: