টাঙ্গাইলদর্পণ নিউজ ডেস্ক:  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শুরু হতে যাচ্ছে এক হাজার শয্যার মাল্টি ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড সুপার স্পেশালাইজড হসপিটালের নির্মাণকাজ। এই হাসপাতাল নির্মাণের ফলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বর্তমান সরকার দেশের সকল স্তরের মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়েছে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সেই পদক্ষেপগুলোর মধ্যে এক হাজার শয্যার মাল্টি ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড সুপার স্পেশালাইজড হসপিটাল অন্যতম। উন্নত বিশ্বের সকল ধরণের চিকিৎসা সেবা থাকবে এই হাসপাতালটিতে। চলতি মাসেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই হাসপাতালটির ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন করবেন।
অত্যাধুনিক হাসপাতালটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর দিকে ১২ বিঘা জমির ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে। ইস্টাবলিশমেন্ট অব আ মাল্টি ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড সুপার স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যাট বিএসএমএমইউর নির্মাণ কাজ শুরুর লক্ষ্যে ইতঃপূর্বে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) ও কোরিয়ার হুন্দাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানির মধ্যে চুক্তি হয়। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সহায়তা করছে কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক। এক হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক এই হাসপাতালটি। বিএসএমএমইউর শিক্ষা, চিকিৎসা ও গবেষণা কার্যক্রম গতিশীল ও উন্নত, দেশের রোগীদের বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা হ্রাস এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী খরচে দেশেই উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে এ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বিএসএমএমইউ সূত্রে জানা যায়, এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালে থাকবে লিভার, গল ব্লাডার ও প্যানক্রিস সেন্টার, অরগান ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার, ক্যান্সার সেন্টার, ম্যাটারনাল এন্ড চাইল্ড হেলথ কেয়ার সেন্টার, ডেন্টাল সেন্টার, কার্ডিও ভাসকুলার/নিউরো সার্জারি সেন্টার, এনড্রোক্রাইনোলজি ডায়াবেটিস সেন্টার, রেসপাইরেটরি সেন্টার, জেরিআট্রিক (বয়স্কদের চিকিৎসা) সেন্টার, জয়েন্ট/স্পাইন কর্ড সেন্টার, হার্ট সেন্টার, বার্ন ইনজুরি সেন্টার, হেলথ স্ক্রিনিং সেন্টার, ইমারজেন্সি মেডিকেল সেন্টার, এমবুলেটরি সার্জারি সেন্টার এবং কিডনি মেশিন সেন্টার (হিমোডায়ালাইসিস সেন্টার)।
জনসাধারণের উন্নত  চিকিৎসার সাথে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশেষায়িত এই হাসপাতালটি। এজন্য এই হাসপাতালটিতে সংযোজন করা হবে সব ধরণের উন্নত আধুনিক যন্ত্রপাতি। দেশে উন্নততর চিকিৎসাবিদ্যা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের জন্য থাকবে অত্যাধুনিক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা ও বায়োমেডিকেল রিসার্চের সুযোগ। এর ফলে যেসব পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য আগে দেশের বাহিরে পাড়ি জমাতে হতো। সেসব পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্ভব হবে আমাদের দেশের মাটিতে। হ্রাস পাবে জনসাধারণের চিকিৎসা ব্যয়। এছাড়াও আন্তর্জাতিক মানের এই হাসপাতালে মিলবে বিদেশের অত্যাধুনিক সব হাসপাতালের সুবিধা। এর মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ার অতিরিক্ত ব্যয় ছাড়াই উন্নত চিকিৎসা মিলবে দেশের মাটিতেই।
দেশের একজন মানুষও যাতে চিকিৎসার অভাবে ঘরে পরে না থাকে এজন্য শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে চিকিৎসা সেবা। কম খরচে যাতে সকল স্তরের মানুষ দেশের মাটিতেই চিকিৎসা সেবা পায় সেই অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন চিকিৎসা সেবার এই উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকবে ভবিষ্যতেও।

Source : http://www.banglaramra.com
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: