টাঙ্গাইলদর্পণ নিউজ ডেস্ক :স্যাটেলাইট, অপটিক্যাল ফাইবার যুগের পর বাংলাদেশ এবার প্রবেশ করতে যাচ্ছে ই-পাসপোর্ট যুগে। দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদার এবং ভুয়া পাসপোর্ট প্রতিরোধে ই-পাসপোর্ট (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) চালু করছে সরকার। বর্তমানে ১১৮টি দেশ ই -পাসপোর্ট ব্যবহার করছে। ১১৯তম দেশ হিসেবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এই ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্টের মাধ্যমে ভুয়া পাসপোর্টের পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং আগের থেকে পাসপোর্ট বিষয়ক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।

দেশের ১৬ কোটি মানুষের মধ্যে বর্তমানে প্রায় ২ কোটি মানুষ মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) মালিক। প্রতিদিন গড়ে ২০ হাজার মানুষ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করছে। ঢাকার আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে জমা পড়ে গড়ে চার হাজার আবেদন। বর্তমানে ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) পাসপোর্টও থাকবে। বিপুল সংখ্যক আবেদনকারীর জন্য সঠিক সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট হস্তান্তর করা একটু সময় সাপেক্ষ। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণের দক্ষ জনবলের ফলে এই কাজ আরো দ্রুত করা সম্ভব।
ই-পাসপোর্টের জন্য স্মার্ট আইডি কার্ডের মতোই গ্রাহকের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হবে। নিরাপত্তার জন্য ই-পাসপোর্টেও থাকবে চোখের মণির ছবি ও আঙুলের ছাপ। আর এর পাতায় থাকা চিপসে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ফলে পরিচয় গোপন করা সম্ভব হবে না। এই ই -পাসপোর্ট তৈরির জন্য জার্মানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। ই-পাসপোর্টের চুক্তি অনুযায়ী জার্মান কোম্পানি ৩০ লাখ ই-পাসপোর্ট বই সরবরাহ করবে। এই প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৫ শ’ ৬৯ কোটি টাকা।
বাংলাদেশের পক্ষে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এম মাসুদ রেজওয়ান এবং জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির পক্ষে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেনস উলফগ্যাং কুনজ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ই-পাসপোর্ট শুরু হলে সেবার মান আরো বাড়বে। এতে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। এর জন্য বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পেরিয়ে যাওয়া ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমবে।
দিন দিন দেশ উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় উন্নত দেশের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও ব্যবস্থা করা হচ্ছে উন্নত সব সেবা। এই প্রেক্ষিতেই দেশে নাগরিক সুবিধার সাথে যুক্ত হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট। বর্তমান সরকার দেশের জনগণের জীবন মানোন্নয়নের জন্য সর্বদা সচেষ্ট। এজন্যই দেশের মানুষের জন্য সংযোজন করা হচ্ছে আধুনিক নাগরিক সেবা এবং এই ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 তথ্যসূত্র : http://www.banglaramra.com/archives/15675
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: