জুয়েল রানা, সখীপুর প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের সখীপুরে ইভ টিজিংকারী ও ঘাতক চালকের পিকআপের চাপায় স্কুলছাত্রী সাদিয়া আক্তারের নিহতের ঘটনায় চালক তানভীর আহমেদের (১৩) ফাঁসির দাবিতে কালোব্যাচ ধারণ করে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে নিহত ছাত্রীর বিদ্যালয়ের সহপাঠী ও শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সখীপুর-ঢাকা সড়কের বড়চওনা বাজারে সড়ক অবরোধ করে তারা এসব কর্মসূচি পালন করে। এ সময় সখীপুর-সাগরদিঘী, সখীপুর-ঢাকা, সখীপুর-টাঙ্গাইল, বড়চওনা-তৈলধারা ও বড়চওনা-দারিপাকা সড়কের সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোশারফ হোসাইন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সবুর রেজা, সখীপুর থানার ওসি এস এম তুহীন আলী, স্থানীয় কালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এস এম কামরুল হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে সাদিয়ার খুনি পিকআপ চালক তানভীরের দ্রুত সময়ে বিচারের আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধসহ সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। কর্মসূচিতে বড়চওনা-কুতুবপুর কলেজের শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অংশ নেয়।    নিহত সাদিয়ার সহপাঠী শারমিন শীলা, সুমি আক্তারসহ তার অন্যান্য সহপাঠীরা সাদিয়াকে হারিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছে। শারমিন শীলা বলেন, সাদিয়া সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়নি। ঘাতক খুনি গাড়ি চালক তানভীর সাদিয়াকে উত্যক্ত করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। আমরা খুনি চালকের ফাঁসি চাই।
সখীপুর থানার ওসি এস এম তুহীন আলী বলেন, গতকাল শনিবার সাত দিনের রিমা- চেয়ে গ্রেফতারকৃত গাড়ি চালক তানভীরকে টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশ মাঠে নেমেছেন।

প্রসঙ্গত. গত শুক্রবার সকালে ৯টার দিকে ফুফুর বাড়ি থেকে বের হয়ে সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কে ওঠে সড়কের একপাশ দিয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি যাচ্ছিল। বেলতলী বাজারের উত্তর পাশে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ (ঢাকা মেট্টো ন-১১-৮৯৪২) সাদিয়াকে ধাক্কা দিলে সে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। পরে স্বজনরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের বাবা আজহারুল হক বাদী হয়ে গাড়ি চালককে প্রধান করে তিনজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় মামলা করেছেন। সে বড়চওনা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মেধাবি শিক্ষার্থী ছিল।



Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: