জুয়েল রানা, সখীপুর প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের সখীপুরে, সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের সখীপুর ফোয়ারা চত্বর থেকে খাদ্য গুদাম পর্যন্ত ৫০০ মিটার সড়কে বড় বড় গর্ত ও খাদের সৃষ্টি হওয়া এলজিইডি সড়কের ভাঙা অংশে ভরাট কাজ শুরু করেছে সখীপুর পৌরসভা।  পৌর মেয়র ও ১২ জন কাউন্সিলর তাদের প্রাপ্য সম্মানী থেকে টাকা উত্তোলন করে প্রত্যেক কাউন্সিলর পাঁচ হাজার করে ও পৌর মেয়র একাই ৪০ হাজার সর্বমোট এক লাখ উত্তোলিত টাকা দিয়ে চলাচল অনুপযোগী সড়কটির সংস্কার গত তিন দিন ধরে কাজ করছেন। সংস্কারের অভাবে সখীপুরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি প্রায় তিন মাস ধরে যে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সাধারণ পথচারিরাও স্বাভাবিকভাবে এ সড়কে পায়ে হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না। এ সড়কের বিকল্প হিসেবে উপজেলা সড়কটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করার ফলে ওই সড়কটিও চলাচলে বেহাল হওয়ার দশা। সখীপুর পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা তাদের ব্যক্তিগত সম্মানীর টাকা থেকে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করায় ওই সড়কের দেড় শতাধিক ব্যবসায়ী উপকৃত হচ্ছেন।

বিভিন্ন যানবাহনের যন্ত্রাংশ ব্যবসায়ী মো. শমশের আলী জানান, এ সড়কটি বেহাল হওয়ার পর থেকে তারা অনেকটাই বেকার হয়ে পড়েছেন। বেচাকেনা নেই বললেই চলে। ওই সড়কের ব্যবসায়ী সালাহ উদ্দিন বলেন, সড়কের অবস্থা বেহাল হওয়ায় গাড়ি, ভ্যান-রিকশা, পথচারি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক দোকানে দুই-তিন দিনে ১০০ টাকার মালামালও বেচা হয় না।
চায়ের দোকানদার মো. রাসেল বলেন, এ সড়কে গাড়ি ও লোকজন চলাচল কমে যাওয়ায় আমার চায়ের দোকান বন্ধ হওয়ার উপক্রম। শিগগিরই সড়কটি মেরামত না হলে আমাদের দোকান বন্ধ রেখে পথে বসতে হবে।
 
সখীপুর পৌরসভার প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান  বলেন, পৌরসভা থেকে এলজিইডি’র সড়ক সংস্কারের বিধান না থাকায় মেয়র মহোদয় তিনি নিজে ও কাউন্সিলরদের বেতনের টাকা দিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের জন্য ব্যক্তিগতভাবে এ উদ্যোগ নিয়েছেন।
সখীপুর পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আবু হানিফ আজাদ বলেন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দূর-দূরান্তের যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা ভেবেই আমরা সড়কটি প্রাথমিক চলাচলের এ উদ্যোগ নিয়েছি।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী কাজি ফাহাদ কুদ্দুস জানান, এলজিইডি’র সড়কে পৌরসভার কাজ করার বিধান না থাকলেও প্রাথমিক সংস্কারের কাজ যে কেউ করতে পারে। তবে সড়কটি পূর্ণাঙ্গ নির্মাণে আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, সর্বোচ্চ আগামী দুই মাসের মধ্যে আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। ঢালাইয়ের  অনুমোদনের কারণেই একটু দেরি হচ্ছে।

Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: