মো.নূর আলম, গোপালপুর প্রতিনিধি, টাঙ্গাইল দর্পণ ডট কম  :

গোপালপুরে ভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ ডিম দিয়ে ভিক্ষা দিলো এক ব্যবসায়ী

টাঙ্গাইলের গোপালপুর পৌরশহরে আজ বৃহস্পতিবার ভিক্ষাবারে (সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে ফকির-মিসকিনকে ভিক্ষা দেয়া) সম্প্রতি ডিমের দাম অস্বাভাবিক হারে নেমে যাওয়ায় এবং ডিমের ক্রেতা না থাকায় মনের ক্ষোভে ভিক্ষুকদের মধ্যে সারাদিন ডিম ভিক্ষা দিয়েছেন প্রতিনিয়ত লোকসান দেয়া এক পল্ট্রিফার্ম খামারী।

দু’পয়সা আয়ের মাধ্যমে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্নে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পল্ট্রিফার্ম করেছিলেন শিক্ষিত বেকার হায়দার আলী। কিন্তু সম্প্রতি বাজারে ডিমের দাম অস্বাভাবিক হারে নেমে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত লোকসান দিতে হচ্ছে তাকে।


আজ গোপালপুর পৌরশহরে ছিল ফকিরমিসকিনকে ভিক্ষা দেয়া ভিক্ষাবার। ডিমের তেমন ক্রেতা না থাকায় মনের ক্ষোভে পৌরশহরের কোনাবাড়ি বাজারে নিজ দোকান থেকে ভিক্ষুকদের মধ্যে ডিম ভিক্ষা দেন সারাদিন। দুই শতাধিক ভিক্ষুক দোকানে ডিম ভিক্ষার জন্য ভিড় জমায়।


জানা যায়, গোপালপুর উপজেলায় চারশতাধিক খামারীর পল্ট্রিফার্মে প্রায় আট লক্ষাধিক মুরগী রয়েছে। সব ফার্ম খামারীর একই ইতিহাস। কেউ বিদেশ ফেরত। কেউ ব্যাংক ঋণ করে বা একমাত্র আবাদী জমি বিক্রি করে পল্ট্রিফার্ম ব্যবসায় নেমেছেন। ডিমের দাম কমে যাওয়ায় সবাই লোকসান দিচ্ছেন।


হায়দার আলী জানান, একটি ডিম উৎপাদনে খরচ পড়ে সাড়ে পাঁচ টাকা। কিন্তু বিক্রি হচ্ছে চার টাকা থেকে বড় জোর চার টাকা বিশ পয়সায়। ভিখারিরা যেখানে দুই টাকার নিচে ভিক্ষা নিতে চায়না। তাই টাকার পরিবর্তে ডিম দিয়ে ভিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি প্রতিবাদও জানাচ্ছি। তিনি আরও জানান, বর্তমানে মুরগীর খাদ্য, ঔষধপত্র ও আনুসঙ্গিক সরাঞ্জামের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় তিন গুণ। কিন্তু ডিমের দাম কমে যাওয়ায় উপজেলার অনেক খামারী হতাশায় খামার বন্ধ করে দিয়েছে।


খুররম খান রাসেল নামক এক খামারী বলেন, সরকার এখন অনেক স্কুলে মিড ডে মিল চালু করেছেন। সেখানে বিস্কুট বা অন্য সস্তা খাবারের পরিবর্তে ডিম দেয়া হলে শিশুদের যেমন পুষ্টির অভাব দূর হতো, তেমনি ডিমের নতুন বাজার সৃষ্টি হতো। তাছাড়া বিদেশী ব্যবসায়ীরা এদেশে এসে বাচ্চা ও ডিম ফুটানোর হ্যাচারীর অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ডিম উৎপাদন ব্যবসায় নামায় পল্টিতে অসম প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিদেশে ডিম রপ্তানির ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত ডিম বাজারজাত হচ্ছেনা। ক্রেতার অভাবে পচে নষ্ট হচ্ছে। সারাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারী পল্ট্রিফার্ম খামারীদের অচল অবস্থা নিরসনে সরকারসহ বিবিএ, আহকাব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততার সাথে সুদৃষ্টি কামনা করছি। এ ব্যাপারে উপজেলা পশুসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করা হয়।
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: