ডেস্ক নিউজ : 
লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামে বন্যায় শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজ বেশ কয়েকজন। পানি পার হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে যাওয়ার সময় লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের পূর্ববড়ুয়া গ্রামে রোববার দুপুরে সাড়ে তিন বছরের এক শিশু মারা গেছে। আরেক শিশুসহ তিনজন নিখোঁজ। কুড়িগ্রামে তিনজন মারা গেছে।

লালমনিরহাটে রোববার বেলা দুইটার দিকে রবিউল ইসলামের সাড়ে তিন বছরের ছেলে নাজিম, নাজিমের মা নাজমা বেগম (২২), রবিউলের বোনের স্বামী মোজাম্মেল হক (৪৫) ও মোজাম্মেলের সাত বছরের ছেলে আলী হোসেন বন্যার পানি পার হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে সবাই পানিতে তলিয়ে যায়। এক ঘণ্টা পর শিশু নাজিমের লাশ ভেসে ওঠে। বাকিরা নিখোঁজ রয়েছে।

লালমনিরহাট রেল বিভাগীয় সূত্র জানায়, বন্যার পানিতে লালমনিরহাট বুড়িমারী রুটের ভোটমারী থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত, কুড়িগ্রামের রমনা বাজার থেকে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত, ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় রুট, লালমনিরহাট রেলস্টেশন থেকে তিস্তা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও ত্রাণ কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানান, বন্যায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবেন্দ্রনাথ জানান, ওই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার্তদের আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

কুড়িগ্রামের কাঁঠালবাড়ী, রাজারহাটের কালুয়া ও ফুলবাড়ীর গোড়ক মণ্ডল এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় এবং পানি ওঠায় জেলার সঙ্গে এসব এলাকার সড়ক ও রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

বগুড়া: জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শাহারুল হোসেন মোহাম্মদ আবু হেনা সোমবার সকালে বলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত সারিয়াকান্দি উপজেলার নয়, সোনাতলা উপজেলার তিন এবং ধুনট উপজেলার দুটিসহ জেলার ১৪টি ইউনিয়ন প্লাবিত ছিল।

রেলবিচ্ছিন্ন দিনাজপুর

এদিকে টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে রেললাইন ডুবে গেছে। ফলে  রোববার থেকে দিনাজপুরের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

সোমবার সকালে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশনমাস্টার মঞ্জুর হোসেন বলেন, “রেললাইনে পানি আসার কারণে গতকাল রোববার সকাল থেকে দিনাজপুর- ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় এবং দিনাজপুর-পার্বতীপুর পথে কোনো রেল চলাচল করতে পারছে না। পার্বতীপুরের পথে রেল না চলায় ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে।”

সকালে টানা বৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে দিনাজপুরের প্রায় সব নদীর পানি বাড়ছে। পুনর্ভবা ও আত্রাই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার করতোয়া, ঢেপা, ছোট যমুনাসহ অন্যান্য নদীর চিত্রও একই।

ফলে রেল যোগাযোগ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না বলে জানান স্টেশন মাস্টার। তিনি বলেন, “রেললাইন থেকে পানি সরে গেলে, কিছু সংস্কার কাজ করতে হবে। তারপরই রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হবে।”
Share To:

Md Abdul Hamid

Post A Comment: