জমি নিয়ে বিরোধের জের! সখীপুরে নিখোঁজের ৫দিন পর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার
জুয়েল রানা, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

সখীপুরে নিখোঁজের পাঁচদিন পর মোহাম্মদ আলী (৫৮ ) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে সখীপুর উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের তক্তারচালা-বাজাইল সড়কের হলুদিয়াচালা এলাকার পানি নিষ্কাষনের পাইপের ভেতর থেকে তার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ওই ব্যক্তি তার ভাতিজা রফিক ও নাতি কাজি সামিউল হোসেন পনির মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে স্বজনদের বাড়িতে বেড়ানোর কথা বলে মোটরসাইকেলযোগে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মজিদপুর এলাকায় নিয়ে যায়। তিনি সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার হোসেন মার্কেট এলাকায় এসে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বাড়ি ফিরে ওই দুইজন পরিবারের লোকজনকে জানান। রাতে বাড়ি না ফেরায় পরেরদিন শুক্রবার মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোশারফ হোসেন মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে নিখোঁজের অভিযোগ করেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে মির্জাপুর থানা পুলিশ।

এ সময় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. শাহাদত হোসেন, মির্জাপুর থানার ওসি মো. মাঈন উদ্দিন, সখীপুর থানার ওসি মো. মাকছুদুল আলম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নিহত মোহাম্মদ আলীর বড় ভাই মৃত জামির শিকদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৩০) ও রফিকুলের ভাগ্নে (নিহতের নাতি) পনির হোসেন (২০) মোহাম্মদ আলীকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মজিদপুর গ্রামের আত্মীয় বাড়ির যাওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে নিয়ে যায়। ওই দিন রাত নয়টার দিকে মোহাম্মদ আলীকে রেখে রফিক ও পনির বাড়ি ফিরে আসে। বাড়ির লোকজন মোহাম্মদ আলীর কথা জানতে চাইলে তারা জানান, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে সিএনজি অটোরিকশায় উঠিয়ে আমরা মোটরসাইকেলযোগে চলে এসেছি। পরের দিন শুক্রবার পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে মোহাম্মদকে না পেয়ে বিকেলে মির্জাপুরের বাঁশতৈল পুলিশ ফাঁড়িতে মোহাম্মদের ছেলে মোশারফ বাদী হয়ে লিখিত দিয়েছেন। পরের দিন শনিবার ওই লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে রফিকুলের স্ত্রী তারিন আক্তার ও রফিকুলের শ্বাশুড়িকে আটক করে বাঁশতৈল ফাঁড়ি পুলিশ। রহস্যজনক কারণে রাতেই তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে নিহতের পরিবারের লোকজন জানান। এ ঘটনার পর রফিক ও পনির দিকে সন্দেহের তীর আরও তীব্র হয়।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে হাতীবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কৌশলে স্থানীয় হামিদুল নামের এক ইউপি মেম্বারকে দিয়ে পনির মা আছিয়ার কাছে আপোষের প্রস্তাব দিলে আছিয়া ওই মেম্বারের কাছে হত্যাকা-ের কথা স্বীকার ও লাশের অবস্থানের কথা জানান।

নিহত ছেলে মো. মোশারফ হোসেন বলেন, আমার বাবা মোহাম্মদ আলী ও রফিকের বাবা মৃত জামির শিকদার দুইজন সৎভাই ছিল। পারিবারিক জমিজমা বন্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের বলি হলেন আমার বাবা। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।

মির্জপুর থানার ওসি মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, মোহাম্মদকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনও লিখিত পাইনি। তবে মৌখিকভাবে জেনেই আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: