আন্তর্জাতিক ডেক্স : তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারার প্রাণকেন্দ্রে বুধবার সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে চালানো একটি গাড়ি বোমা হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছে। ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী নুমান কার্তুলমাস বলেন, সামরিক গাড়ি বহরে এই বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি এই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।

কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের শপথ নিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

আঙ্কারার মধ্যাঞ্চলে সৈন্যবাহী বাসের একটি বহর ট্রাফিক সিগনেল মেনে থেমে গেলে বোমা বিস্ফোরণটি ঘটানো হয়। হামলার পর সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তুরস্কের সামরিক সদরদপ্তর ও পার্লামেন্ট ভবনের কাছে এ হামলা চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে মোটা ধোঁয়ার কু-লী আকাশের দিকে উঠতে দেখা গেছে। আঙ্কারার সকল স্থান থেকেই প্রচ- বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের শব্দে বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে কি ঘটেছে তা জানার জন্য বাড়ির বারান্দায় ছুটে আসে।

২৫ বছর বয়সী গুরকান বলেন, ‘আমি একটি অগ্নিগোলক দেখতে পেয়েছি।’ তিনি ঘটনাস্থল থেকে ৫শ’ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনে আতঙ্কিত মানুষ দিশেহারা হয়ে ছুটোছুটি করতে থাকেন।’
এরদোগান হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘তুরস্ক তার আত্মরক্ষার অধিকার বাস্তবায়নে ইতস্তত করবে না। যে কোন সময়, যে কোন স্থানে তুরস্ক এই অধিকার প্রয়োগ করবে।’

ভয়াবহ এই হামলার কারণে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেৎ দাবুতোগলু বৃহস্পতিবারের ব্রাসেলসে সফরের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।

ইউরোপে চলমান শরণার্থী সংকট নিয়ে আলোচনা করতেই ব্রাসেলস যাওয়ার কথা ছিল তার। এছাড়া তিনি আজারবাইজান সফরও স্থগিত করেছেন।

আঙ্কারায় অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনীর গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। সেখান থেকে স্ট্রেচারে করে আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ ওই এলাকা ঘিরে রেখেছে।

কর্মকর্তারা বলেন, পরে আরেকটি বিস্ফোরণে এলাকাটি কেঁপে ওঠে। পুলিশ একটি সন্দেহজনক জিনিসকে নিষ্ক্রিয় করার সময় এ বিস্ফোরণ ঘটে।

ওয়াশিংটন এক বিবৃতিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘তুরস্কের সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর এই অন্যতম প্রধান অংশীদারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছে। ন্যাটোর মহাসচিব জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেছেন, ন্যাটো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধে ন্যাটোর মিত্ররা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ‘তুরস্ক ও এর জনগণের এই দুঃসময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর’ অঙ্গীকার করছে।
কুরতুলমাস বলেন, কর্তৃপক্ষ এখনো জানতে পারেনি কে এই হামলা চালিয়েছে। তবে ‘দুষ্কৃতকারীদের পরিচয় যত শিগগিরই সম্ভব উন্মোচন করা হবে।’

Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: