অর্থনীতি ডেক্স : মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কোনো গ্রাহক ৫ হাজার টাকার বেশি পরিমাণ উত্তোলন বা কাউকে বাহক হিসেবে পাঠালে তাহলে তার ছবি তুলে রাখবেন এজেন্ট।

অপরাধমূলক লেনদেনের ঝুঁকি এড়াতে রোববার (০২ আগস্ট) এ নির্দেশ জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ সার্কুলার জারির পর ব্যাংকগুলো কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা ৩১ আগস্টের মধ্যে জানাতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, গ্রাহকের কেওয়াইসিতে (নো ইউর কাস্টমার) প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফোনের সিমের নিবন্ধন তথ্যাবলি একই রকম এবং নির্ভুল করার লক্ষ্যে সব গ্রাহকের মোবাইল ফোনের সিম আগামী ৬ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন বা রি-রেজিস্ট্রেশন করাতে হবে। গ্রাহকদের দিয়ে রেজিস্ট্রেশন শেষে প্রমাণকের কপি এজেন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করে তা যাচাই ও সংরক্ষণ করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রচারণা কার্যক্রম গ্রহণের উদ্যোগ নিতে হবে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে সন্ত্রাসী অর্থায়ন, মানবপাচার বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ সরবারহ ঠেকাতে সেবা প্রদানদারী ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারি কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ।

পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, মোবাইল ফোন অপারেটরের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক ইতোমধ্যে সব সিম যথাযথ পুনর্নিবন্ধন করতে নির্দেশনা জারি করেছে।

দেশের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের কার্যক্রম নিরাপদ ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এ খাতে ব্যবহৃত সব গ্রাহকের সিম ও সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের তথ্যাবলি কেওয়াইসিতে প্রদত্ত তথ্যের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব খোলার আগে আবেদনকারী সিম এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর একই ব্যক্তির কিনা তা যাচাই করতে হবে। মূলত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে অর্থ সরবারহ বন্ধ করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হলো।

সূত্র জানায়, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ২৮টি ব্যাংককে অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত এ সেবাটি চালু করতে সক্ষম হয়েছে ২০টি ব্যাংক। এ ব্যাংকগুলো মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দিতে মোট ৫ লাখ ৩৮ হাজার ১৭০টি এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে। নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ২ কোটি ৮৬ লাখ।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪৩২ কোটি টাকার মতো লেনদেন হয়। চালু মোবাইল ব্যাংকিংগুলো হলো- ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিং, ইউক্যাশ, এমক্যাশ, মাইক্যাশ, শিওরক্যাশ, ওকেক্যাশ, হ্যালোক্যাশ, স্পটক্যাশ, আইএফআইসি মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি।
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: