জাতীয় ডেক্স : প্যারাসিটামল খেয়ে ৭৬ শিশুর মৃত্যু মামলায় ছয়জনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ভেজাল প্যারাসিটামল তৈরির দায়ে দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বিসিআই বাংলাদেশের পরিচালক মো. শাহজাহান সরকার, শামসুল হক, নুরুন নাহার বেগম, উৎপাদন ব্যবস্থাপক এম তাজুল হক, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপক আয়েশা খাতুন ও নির্বাহী পরিচালক এ এস এম বদরুদ্দোজা।

সোমবার ঢাকার ড্রাগ আদালতের বিচারক এম আতোয়ার রহমান ২৩ বছর আগে করা এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। 

কারাদণ্ডের পাশাপাশি ছয় আসামির প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন বিচারক্। জরিমানার টাকা দিতে না পারলে তাদের আরো ছয় মাসের জেল খাটতে হবে।

দণ্ডপাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জামিনে থাকা শাহজাহান রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বাকি পাঁচ আসামি মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

এ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ নাদিম মিয়া জানান, রাষ্ট্রপক্ষে তিনজনের সাক্ষ্য শুনে আদা্লত এই রায় ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনে এ অপরাধের জন্য ১০ বছর কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডই সর্বোচ্চ সাজা বলে আসামি জানান শাজাহানের আইনজীবী খন্দকার বশির আহমেদ।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, প্যারাসিটামল সিরাপে বিষাক্ত উপাদান থাকায় ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে বহু শিশু কিডনি সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে অন্তত ৭৬ জনের মৃত্যু হয়।

বিষয়টি উদঘাটিত হওয়ার পর বিসিআইয়ের উৎপাদিত প্যারসিটনসহ পাঁচ কোম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপে ক্ষতিকর ডাই-ইথিলিন গ্লাইকলের উপস্থিতি ধরা পড়ে।

এরপর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের তখনকার পরিদর্শক আবুল খায়ের চৌধুরী ১৯৯২ সালের ১৮ নভেম্বর দুটি ধারায় বিসিআই বাংলাদেশের ছয়জনকে আসামি করে এ মামলা করেন।

১৯৯৪ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হলেও অভিযুক্ত চার কোম্পানির আবেদনে উচ্চ আদালত মামলার কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেন। সেই স্থগিতাদেশ ২০১১ সালে প্রত্যাহারের পর বিসিআইয়ের মামলার শুনানি গত বছরের ৭ আগস্ট আবার শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত সোমবার এই মামরার রায় দেন।
Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: