টাকা নিয়ে বসে আছে বিএইচবিএফসি, ঋণগ্রহীতার দেখা মিলছে না - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ টাকা নিয়ে বসে আছে বিএইচবিএফসি, ঋণগ্রহীতার দেখা মিলছে না - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭
  • শিরোনাম

    মঙ্গলবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

    টাকা নিয়ে বসে আছে বিএইচবিএফসি, ঋণগ্রহীতার দেখা মিলছে না

    টাঙ্গাইলদর্পণ নিউজ ডেস্ক:  সরকারের সার্বিক প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগ সরকারের চলমান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সর্বক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। দেশবাসীর বসতবাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত আর্থিক জটিলতা সমাধানে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি) বাড়িয়েছে সহযোগীতার হাত। সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে বাড়ি নির্মাণের সুন্দর সুযোগ সৃষ্টি করেছে সরকার। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের টানা প্রায় দশ বছরের সুশাসনে বাংলাদেশের মানুষ এতটাই আর্থিক ও সামাজিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে যে কেউ আর ঋণ নিয়ে বাড়ি বানাতে চান না। বরং নিজ অর্থ ব্যয় করেই বাড়ি নির্মাণ করছেন তারা। তাই ঋণ নেওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতা খুঁজে পাচ্ছে না হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন। এমনকি মানুষের কাছে ধরনা দিয়েও ঋণ বিতরণ করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। তাই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনেকটাই হতাশা নিয়ে ঋণ বিতরণে তাদের অক্ষমতা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
    জমি আছে বাড়ি করার টাকা নাই, আবার ডেভেলপারের কাছেও যেতে চান না। কিংবা বাড়ি করেছেন দুই তলা, প্ল্যান আছে ৭ তলা করার কিন্তু পারছেন না। অনেকের বাড়ি পুরাতন হয়ে গেছে সেটিও মেরামত করাতে পারছেন না। দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনার পাশেই রয়েছে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন (বিএইচবিএফসি)। বাড়ি নির্মাণ করা থেকে শুরু করে মেরামত করার টাকাও দেবে সরকারি এ সংস্থা। কম সুদের হারে সহজ শর্তে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ দিচ্ছে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন। এমনকি প্রবাসীদের জন্য ‌’প্রবাস বন্ধু’ নামেও রয়েছে একটি প্রকল্প।
    দেবাশীষ চক্রবর্তী বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে গত ১ জানুয়ারিতে যোগদান করেন। এর আগে তিনি রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
    জনগণের সেবায় নিত্যনতুন প্রকল্প গড়ে জনগণের দোরগড়ায় পৌঁছাতে চায় হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন। পূর্বের দোষত্রুটি শুধরে একেবারে ডিজিটালাইজড সিস্টেমে এগিয়ে চলেছে সংস্থাটি। গত জানুয়ারিতে নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী যোগদানের পরই মূলত গতি পায় সংস্থাটি। নিজস্ব কিছু ভাবনায় ছয়টি নতুন প্রকল্প খুলে তাতে সাড়াও মিলছে। ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়ে তা ছাড়িয়েও গেছে।
    বর্তমানে হাউজ বিল্ডিং ফাইনান্স ৬ ক্যাটাগরিতে ঋণ প্রদান করছে। এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি মানুষের জন্য আবাসন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে হাউস বিল্ডিং ফাইনান্স কর্পোরেশন। কর্পোরেশনকে ডিজিটালাইজড করে ভোগান্তি কমিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে। যোগদানের পরপরই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে ঠিক করে নিজস্ব ভাবনায় ৬টি ক্যাটাগরি আমরা নির্ধারণ করি। ক্যাটাগরিগুলো হলো নগর বন্ধু, প্রবাস বন্ধু, আবাসন উন্নয়ন, আবাসন মেরামত, ফ্ল্যাট ঋণ এবং পল্লীমা। ক্যাটাগরিগুলো নির্ধারণ করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করছি। এর ফলাফলও ভালো আসছে। আমাদের চলমান প্রজেক্টগুলো হল…
    নগরবন্ধু: ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে “একক/যৌথভাবে বাড়ি নির্মাণ” অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা। সর্বোচ্চ ঋণসীমা: বাড়ি নির্মাণে সর্বোচ্চ ১ কোটি এবং ফ্ল্যাটক্রয়ে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা। সুদের হার: বাড়ি নির্মাণে ৯.৫০% এবং ফ্ল্যাটক্রয়ে: ১০%। পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫, ১০, ১৫ বা ২০ বছর।
    পল্লীমা: ঢাকা-চট্টগ্রাম মেট্রোএলাকার বাইরে যেকোন জেলা/উপজেলা, গ্রোথসেন্টারে একক/গ্রুপে বাড়ি নির্মাণ অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।
    সুদের হার: বাড়ি নির্মাণে ৮.৫০% এবং ফ্ল্যাটক্রয়ে: ১০%।পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫,১০,১৫ বা ২০ বছর।
    আবাসন উন্নয়ন: বিদ্যমান ভবনের অসমাপ্ত ফ্লোর নির্মাণে সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা পর্যন্ত সরল সুদে গৃহঋণ সেবা। সুদের হার: ঢাকা/চট্টগ্রাম মেট্রোএলাকায়: ৯.৫০%, অন্যত্র: ৮.৫০%।
    পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫,১০,১৫ বা ২০ বছর
    আবাসন মেরামত: বিদ্যমান ভবন সংস্কারে সর্বোচ্চ ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।
    সুদের হার: ঢাকা/চট্টগ্রাম মেট্রোএলাকায়: ৯.৫০%, অন্যত্র: ৮.৫০%।
    পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫ অথবা ১০ বছর।
    প্রবাসবন্ধু: প্রবাসীদের জন্য সারাদেশে একক/গ্রুপে বাড়ি নির্মাণ অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।
    সুদের হার: বাড়ি নির্মাণে ঢাকা/চট্টগ্রাম মেট্রো এলাকায়:৯.৫০%, অন্যত্র: ৮.৫০% এবং ফ্ল্যাটক্রয়ে: ১০%।
    পরিশোধ মেয়াদকাল: ৫,১০,১৫,২০ অথবা ২৫ বছর।
    ফ্ল্যাট ঋণ: ঢাকা-চট্টগ্রাম মেট্রোএলাকাসহ যেকোন জেলা/উপজেলা, গ্রোথসেন্টারে একক/গ্রুপে বাড়ি নির্মাণ অথবা ফ্ল্যাটক্রয়ে সরল সুদে গৃহঋণ সেবা।
    সুদের হার ঢাকা ও চট্টগ্রাম এলাকা মেট্রো এলাকাসহ সকল বিভাগীয় শহরে ১০%, পেরি আরবান, উপজেলা সদর ও গ্রোথ সেন্টার এলাকায় ৯%।
    পরিশোধ মেয়াদকাল : ৫,১০,১৫,২০ অথবা ২০ বছর।
    গ্রাহকদের ইঙ্গিত করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, কাগজপত্র ঠিক থাকলে টাকা নিয়ে বসে আছি। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই আমরা ঋণ দিচ্ছি।নিয়ে যান।
    তিনি বলেন, হাউস বিল্ডিং সম্পর্কে মানুষের ধারণা পাল্টে দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগে সারাদেশে ২৯টি অফিস থাকলে আরও ৭১টি অফিসের অনুমোদন পাওয়া গেছে। খুব শীঘ্রই আরো ৭১টি অফিস খোলা হবে। মানুষের খুব কাছে যেতেই আমাদের এই পরিকল্পনা।
    তিনি আরও বলেন, বর্তামান ডিজিটালাইজেশনের যুগে আমরাও পিছিয়ে নেই। আমাদের নিজস্ব ওয়েব সাইটের পাশাপাশি ফেসবুক পেজ রয়েছে। সেখানে লোকজন নানা প্রশ্ন করছেন আমরা সেগুলোর জবাব দিচ্ছি। আমরা কল সেন্টারও খুলতে যাচ্ছি।
    দেবাশীষ চক্রবর্তী বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে আবাসন মেলাও করছি। আগামী ১৯ অক্টোবর থেকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে রিহ্যাবের সঙ্গে মেলাও আমরা মেলা করবো।
    তিনি বলেন, সার্বিকভাবে মানুষের আবাসন সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় সবকিছুই আমরা করবো।


    Source :   https://banglanewspost.com
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: টাকা নিয়ে বসে আছে বিএইচবিএফসি, ঋণগ্রহীতার দেখা মিলছে না Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top