এক যাত্রায় দুই ফল, গোপালপুরে ফেঁসে যাচ্ছেন এক স্কুল শিক্ষিকা - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ এক যাত্রায় দুই ফল, গোপালপুরে ফেঁসে যাচ্ছেন এক স্কুল শিক্ষিকা - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭
  • শিরোনাম

    মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮

    এক যাত্রায় দুই ফল, গোপালপুরে ফেঁসে যাচ্ছেন এক স্কুল শিক্ষিকা

    মো. নূর আলম গোপালপুর প্রতিনিধি: জুন সমাগত। অর্থ বছর শেষ। দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করতে হবে। তাই, সরকারি গাছ না কাটলে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ হবেনা। সমুদয় টাকা ফেরত যাবে। এলজিইডির এমন চাপ আর কুপরামর্শের ফাঁদে পড়ে ফেঁসে যাচ্ছেন গোপালপুরের এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষকা।জানা যায়, গোপালপুর এলজিইডি চলতি অর্থ বছরের টি ই ডি পি-৩ প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে দশটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ দশটির অন্যতম হল হেমনগর ইউনিয়নের উদ্যমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের পূর্ব ও দক্ষিণ সীমানায় প্রায় তিনশ ফুট বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণের কথা। স্কুল মাঠের পূর্ব দিকে উদ্যমপুর গ্রামের সাকের আলী তালুকদারের পুত্র মজিবর রহমান তালুকদারের বসতবাড়ি। স্কুলের প্রায় দুই শতাংশ জমি তার বসতভিটার আঙ্গিনায় ঢুকে যায়। বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণের জন্য সীমানা চিহ্ণিতকরণ এবং দখল করা জমি পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে গত ৬ মে স্কুল পরিচালনা কমিটির এক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক খোরশেদ আলম নামক এক আমীনকে দিয়ে স্কুল মাঠের সীমানা চিহ্ণিত করা  হয়। মজিবর রহমান মন্ডল দখল করা জমি ছেড়ে দেন এবং স্কুলের পূর্ব সীমানার ৬টি কাঁঠাল, একটি কৃষ্ণচুড়া এবং ৬টি সুপারী গাছ কেটে বিক্রি করে দেন। মাঠের দক্ষিণ পাশে গোপালপুর-হেমনগর সড়ক।  এ সড়ক ঘেষে স্কুল মাঠের দক্ষিণ প্রান্তে ছিল ঝড়ে পড়া একটি কৃষ্ণচূড়া এবং দুটি আকাশমনি গাছ। এ সব গাছ বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণের স্বার্থে কেটে ফেলার জন্য স্কুল পরিচালনা কমিটিকে পরামর্শ দেন এলজিইডির উপসহকারি প্রকৌশলী শামসুল আলম। প্রধান শিক্ষিকা গাছ কাটতে গড়িমশি করলে উপসহকারি প্রকৌশলী শামসুল আলম নানা ভাবে চাপাচাপি শুরু করেন। এক পর্যায়ে বলেন, গাছ কাটা না হলে বাউন্ডারি ওয়াল হবে না। সমুদয় টাকা সরকারি ফান্ডে ফেরত যাবে। এ দিকে বাউন্ডারি দেয়াল  না থাকায় মাঠে খেলতে গিয়ে স্কুলের ছেলেমেয়েরা প্রায়ই দুর্ঘর্টনার সম্মুখীন হয়। প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়া জানান, এসব বিবেচনায় এলজি ইডির পরামর্শে এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির লিখিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক শ্রমিক দিয়ে গাছ কাটানোর ব্যবস্থা করেন। পরে এলজিইডি ওইস্থানে বাউন্ডারী দেয়াল নির্মাণ শুরু করেন। এদিকে স্কুলের দখল করা কয়েক গজ জমি পুনরুদ্ধার করা নিয়ে মজিবর রহমান তালুকদার ও স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়ার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর জের ধরে অভিযোগটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার পর্যন্ত গড়ায়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা শারমীন বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন হেমনগর ইউনিয়ন ভূমি উন্নয়ন কর্মকর্তাকে। ওই কর্মকর্তা তদন্ত রিপোর্টে গাছ কাটার সত্যতা উল্লেখ করেন। গত ১৫ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গাছ কাটার জন্য প্রধান শিক্ষক সুলতানা রাজিয়াকে শোকজ করেন। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি বেলায়েত হোসেন জানান, কোন অসৎ উদ্দেশ্যে গাছ কাটা হয়নি। এলজিইডির মতো সরকারি দপ্তরের পরামর্শে তা করা হয়েছে। কর্তন করা গাছ আকারে ও খুব ছোট। প্রধান শিক্ষক যদি গাছ কাটার জন্য দোষী হয়ে থাকেন তাহলে মজিবর রহমান তালুকদার বা এলজিইডির উপসহকারি প্রকৌশলী শামছুল আলম ও সে দায় এড়াতে পারেন না। মজিবর রহমান স্কুল মাঠে লাগানো গাছ বেআইনী ভাবে কেটেছেন। তা বিক্রি ও করেছেন। একই অপরাধে একজন দোষী হবেন আরেকজন পার পেয়ে যাবেন, এক যাত্রায় দুই ফল হয় কী করে?  এ ব্যাপারে এলজিইডির উপসহকারি প্রকৌশলী শামসুল আলম জানান, তিনি স্কুলের গাছ কাটার জন্য কাউকে পরামর্শ দেননি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা শারমীন জানান, উপজেলা প্রশাসনকে না জানিয়ে গাছ কাটা বেআইনী। এ জন্য প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: এক যাত্রায় দুই ফল, গোপালপুরে ফেঁসে যাচ্ছেন এক স্কুল শিক্ষিকা Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top