ইউপি নির্বাচন টাঙ্গাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে মাঠ কর্মীরা - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ ইউপি নির্বাচন টাঙ্গাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে মাঠ কর্মীরা - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭

728x90 AdSpace

  • Latest News

    Thursday, March 03, 2016

    ইউপি নির্বাচন টাঙ্গাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে মাঠ কর্মীরা

    বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী :  টাঙ্গাইলে পৌরসভা নির্বাচনের মতো আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে মনোয়ন পত্র জমা দিচ্ছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা। পৌরসভা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তেমন কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রধান দু-দলেই বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে বলে মনে করছেন জেলার রাজনৈতক বিশ্লেষকরা। বিদ্রোহীদের কারণে বাড়তি চাপে রয়েছে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এতে বিপাকে রয়েছে মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। বিপাক এড়াতে কোথাও কোথাও সাধারণ কর্মীরা দলের পরিবর্তে এলাকার প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছে।

    বিদ্রোহীদের ব্যাপারে মাঠকর্মীরা বলছে প্রচারনা এরা বিপাকে পড়ছে। বিদ্রোহী প্রার্থীরা বলছে সুক্ষভাবে প্রার্থী বাছাই হয়নি। জেলা নেতৃবৃন্দ বলছে বিদ্রোহীদের বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    উপজেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা যায় প্রথম ধাপে জেলার নাগরপুর উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে। উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিল শেষ হয়েছে গত ২২ ফেব্রুয়ারি। চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৭৭ জন  প্রার্থী। এর মধ্যে দলীয় ৩৩জন, স্বতন্ত্র ৪৪জন ।

    নাগরপুর উপজেয়ার ভারড়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের (নৌকা) প্রতীক পেয়েছেন রিয়াজ উদ্দিন তালুকদার, সহবতপুর ইউনিয়নে (বর্তমান চেয়াম্যান) আনিছুর রহমান আনিছ, গয়হাটা ইউনিয়নে শেখ শামসুল হক, নাগরপুর ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (বর্তমান চেয়ারম্যান) কুদরত আলী, সলিমাবাদ ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. দাউদুল ইসলাম দাউদ, দপ্তিয়র ইউনিয়নে আবুল হাসেম, ভাদ্রা ইউনিয়নে হামিদুর রহমান লালন, ধুবরিয়া ইউনিয়নে মতিয়ার রহমান, মামুদনগর ইউনিয়নে শেখ কামাল হোসেন, মোকনা ইউনিয়নে শরীফুল ইসলাম শরীফ, পাকুটিয়া ইউনিয়নে আজাহারুল ইসলাম, বেকরা ইউনিয়নে শওকত হোসেন আওয়ামী লীগ থেকে দলীয়ভাবে মনোনীত হয়েছেন।

    আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী: অধিাকাংশ ইউনিয়নেই আওয়ামীলীগে রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী র্প্রাী। আওয়ামী লীগ থেকে ভাররা ইউনিয়নে দলীয় ৩জন, স্বতন্ত্র (ভাররা দক্ষিণ) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, সহবতপুর ইউনিয়নে দলীয় ৪জন, স্বতন্ত্র ৩ জন, গয়হাটা ইউনিয়নে দলীয় ৩জন, (বর্তমান চেয়ারম্যান) ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান আসকর, সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান কাইয়ুমসহ মোট ৫জন, বেকরা ইউনিয়নে দলীয় ২জন, আওয়ামী লীগ নেতা চিত্তরঞ্জন সরকারসহ ৫জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। নাগরপুর ইউনিয়নে দলীয় ৪জন ও স্বতন্ত্র একজন, সলিমাবাদ ইউনিয়নে দলীয় ৩জন ও স্বতন্ত্র ৭ জন, দপ্তিয়র ইউনিয়নে দলীয় ৩জন ও স্বতন্ত্র ৩জন, ভাদ্রা ইউনিয়নে দলীয় ৩জন ও স্বতন্ত্র ৬জন, ধুবড়িয়া ইউনিয়নে দলীয় ২জন (বর্তমান চেয়ারম্যান) সফিকুর রহমান শাকিলসহ ৩জন স্বতন্ত্র, মামুদনগর ইউনিয়নে দলীয় ২জন ও স্বতন্ত্র ৪জন, মোকনা ইউনিয়নে দলীয় ২জন ও স্বতন্ত্র ২জন, পাকুটিয়া ইউনিয়নে দলীয় ২জন ও স্বতন্ত্র ৪জন।

    উপজেলা বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপির তৃনমুলের মতামতের ভিত্তিতে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১২জন চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নামের তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তার মধ্যে ২নং সহবতপুরে ইউনিয়নে তৃনমুলের বাইরে একজন প্রার্থীকে মনোনীত করা হয়েছে। দলীয় মনোনীত (ধানের শীষ) প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- ভারড়া ইউনিয়নে মনিরুজ্জামান লিটন, সহবতপুর ইউনিয়নে আবুল হোসেন। গয়হাটা ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ, নাগরপুর ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান হবি, সলিমাবাদ ইউনিয়নে ফরিদ আহম্মেদ ভূঁইয়া, দপ্তিয়র ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ সিদ্দিকী, ভাদ্রা ইউনিয়নে হাবিবুর রহমান হাবিব, ধুবরিয়া ইউনিয়নে আশিকুর রহমান নিশাত, মামুদনগর ইউনিয়নে উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাহে আলম সাবু, মোকনা ইউনিয়নে (বর্তমান চেয়ারম্যান) আতাউর রহমান খোকা, পাকুটিয়া ইউনিয়নে (বর্তমান চেয়ারম্যান) সিদ্দিকুর রহমান, বেকরা ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল বারী।

    এদিকে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন হবে জেলার ভূঞাপুর ও গোপালপুর উপজেলার  ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে। ভূঞাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর শাসক দল আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আরো ৮ জন।

    দলীয় মনোনয়নপত্র পাওয়ার পর চেয়ারম্যান প্রার্থীরা এবং দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা স্বস্ব এলাকার পাড়া-মহল­ায় ভোটারদের মন যোগাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৪টিতে রয়েছে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী।

    এ উপজেলায় চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন- অর্জুনা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী মোল­া এবং বিএনপির নাসির উদ্দিন পিন্টু। ফলদা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু এবং বিএনপির সেলিমুজ্জামান সেলু। গাবসারা ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির এবং বিএনপি থেকে খ. আকতারুজ্জামান। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন শাহ আলম আকন্দ শাপলা, ফজল মন্ডল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক এসএম মনিরুজ্জামান (পান্না)। গোবিন্দাসী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মীর শাহীন হোসেন আরজু এবং বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বাবলু। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম আমিন ও দুলাল হোসেন চকদার, স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল আলম তালুকদার। নিকরাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মতিন সরকার এবং বিএনপির প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন মন্ডল। এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মোতালেব সরকার, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা নজরুল ইসলাম। অলোয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নুরুল ইসলাম এবং বিএনপির আরিফুল ইসলাম। এখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান রহিজ উদ্দিন আকন্দ, মর্তুজ আলী, লিটন মিঞা। এ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহজাহান আলী সরকার।

    গোপালপুরেও একই চিত্র। উপজেলার ধোপাকান্দি ইউনিয়নে তালিকাভূক্ত রাজাকারের ছোট ভাই আবদুর রহিমকে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে । রাজাকারের ছোট ভাইয়ের মনোনয়ন বাতিলের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু-দৃষ্টির দাবিতে গত বৃহস্পতিবার থেকে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসি। এ বিষয়ে সভাপতি স্থানীয় সরকার বিষয়ক সংসদীয় বোর্ড ও সভাপতি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিকট একটি লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন। এতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সৃষ্টি হয়েছে।

    বিদ্রোহীদের ব্যাপারে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক জানান, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিদ্রোঞী প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে দলীয় সাংগাঠনিক প্রক্রিয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    এদিকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পদক কৃষিবিদ শামসুল আলম তোফা জানান, ইউপি নির্বাচনে বিএনপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্য খুব কম। দলের মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে সমন্বয় করার চেষ্টা চলছে। এ নির্বাচনে শেষ পর্যায়ে বিএনপিতে কোন বিদ্রোহী প্রার্থী থকবেনা।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ইউপি নির্বাচন টাঙ্গাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে মাঠ কর্মীরা Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top