বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু হচ্ছে আগামীকাল - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু হচ্ছে আগামীকাল - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭
  • Latest News

    বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৬

    বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু হচ্ছে আগামীকাল

    বিশেষ প্রতিবেদক : অবশেষে পঞ্চগড়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে লোক পারাপারের জন্য ইমিগ্রেশন চালু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আনুষ্ঠানিকভাবে ইমিগ্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। এসময় ভারতের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বেশ কিছু উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি সীমান্ত ক্রসিং পয়েন্টে ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট উদ্বোধনের পরই এই সীমান্ত পথ দিয়ে মানুষ গমনাগমন করতে পারবেন। 

    গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মোজাম্মেল হক খাঁনের সভাপতিত্বে বৈঠকে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন, পুলিশ সুপার গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি ছাড়াও স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে দীর্ঘ প্রত্যাশিত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর খবরে পঞ্চগড়ে আনন্দের বন্যা বইছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকেই পিক আপে চড়ে ব্যান্ড পার্টির দল ঢাক-ঢোল পিটিয়ে জেলাবাসীকে সুখবরটি জানান দেয়।

    উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর নেপাল ও ভুটানের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির আওতায় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু। বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন ও বর্তমান বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও নেপালের তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী চক্র প্রসাদ বাসতুলা আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। নেপালের সাথে বাণিজ্য কার্যক্রম চলতে থাকলেও ভুটানের সাথে অদ্যাবধি বাণিজ্য কার্যক্রম শুরু হয়নি। এরপর ২০১১ সালের ২২ জানুয়ারি ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অংশ হিসেবে এই বন্দর দিয়ে ভারতের সাথে স্বল্প পরিসরে বাণিজ্য কার্যক্রম চালু হয়। ওই দিন ভারতের ফুলবাড়িতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দু'দেশের মধ্যে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের তৎকালীন ও বর্তমান কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এবং ভারতের বর্তমান রাষ্ট্রপতি ও তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জী। সে সময় তারা এ বন্দর দিয়ে দুই দেশের বিভিন্ন পণ্য ব্যাপকভাবে আমদানি ও রফতানীর সুযোগসহ পরবর্তি ৩ মাসের মধ্যে ইমিগ্রেশনসহ পূর্ণাঙ্গ স্থলবন্দর হিসেবে চালুর ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিন মাসের প্রতিশ্রুতি, ৭০ মাস পর অবশেষে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু হচ্ছে।

    বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের সুপার আমিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই বন্দর দিয়ে প্রতিবছরই সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ছে। চলতি অর্থবছরে এই বন্দরে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছিল ৪৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত প্রথম ৬ মাসে এই বন্দর থেকে ২৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার ১০৯ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। ইমিগ্রেশন চালুর পর রাজস্ব আদায় আরো অনেক গুন বেড়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    পঞ্চগড় জেলা আমদানি ও রপ্তানীকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পঞ্চগড় চেম্বারের নব নির্বাচিত পরিচালক মেহেদি হাসান খাঁন বাবলা বলেন, খবরটি আমাদের জন্য খুবই আনন্দের। এই সুখবরটির জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হল ১৮ বছর। এখন এই স্থলবন্দরটি হবে বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও লাভজনক। কারণ বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত। এখান থেকে সড়ক পথে ভারতের শিলিগুড়ির দূরত্ব মাত্র ৬ কিলোমিটার, জলপাইগুড়ি ৪০ কিলোমিটার, দার্জিলিং ৬০ কিলোমিটার ও নেপালের কাকরভিটা সীমান্ত ৩৪ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থাও অত্যন্ত ভালো। অবস্থানগত কারণে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর বাণিজ্যের ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই ভারতের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় বিভিন্ন কাজে ভারতে গমনেচ্ছুরা এই বন্দরটি ব্যবহার করবে। কারণ বাংলাবান্ধার ওপারে ভারতের ফুলবাড়ি থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরেই ভারতের এনজিপি রেলস্টেশন। এই রেলস্টেশন থেকে ভারতের যে কোন স্থানে সহজে যাতায়াত সম্ভব। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালুর পর পার্শ্ববর্তী ঠাকুরগাঁও জেলার শিবগঞ্জে অবস্থিত পরিত্যক্ত বিমান বন্দরটি আবারো চালু করা সম্ভব হবে।

    এ ব্যাপারে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে লোক পারাপারের জন্য ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এই বন্দরে ইমিগ্রেশন চালু করতে অনেক দেন-দরবার করতে হয়েছে। অনেক দিন ধরেই ইমিগ্রেশন চালুর বিষয়টি নিশ্চিত হলেও বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। বাংলাবান্ধায় ইমিগ্রেশন চালু হওয়ায় পঞ্চগড়বাসীর দীর্ঘদিনের একটি দাবি পূরণ হল। তিনি আরো বলেন, এর আগে পঞ্চগড়সহ আশপাশের জেলার মানুষ ভারতে যাওয়ার জন্য লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহার করত। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় এখন সবাই বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ব্যবহার করবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভূটান এই ৪ দেশের মধ্যে সড়কপথে যান চলাচলের চুক্তি হয়েছে। বাংলাবান্ধায় ইমিগ্রেশন চালুর পর এই রুট দিয়ে যান চলাচলের দাবি আরো জোরালো হবে বলে তিনি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এখন থেকে পঞ্চগড় জেলা একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দেশের বড় বড় ব্যবসায়ীরা এখানে শিল্প কারখানা স্থাপন করবে। এতে করে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।-বাসস।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে ইমিগ্রেশন চালু হচ্ছে আগামীকাল Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top