পাকিস্তানি গুপ্তচর ও জেএমবির ভয়াবহ পরিকল্পনা - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ পাকিস্তানি গুপ্তচর ও জেএমবির ভয়াবহ পরিকল্পনা - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭
  • Latest News

    সোমবার, নভেম্বর ৩০, ২০১৫

    পাকিস্তানি গুপ্তচর ও জেএমবির ভয়াবহ পরিকল্পনা

    নিউজ ডেক্স : রাজধানীর বিমানবন্দর ও খিলগাঁও থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন জেএমবির চার সদস্যকেআটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল রোববার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদেরকাছ থেকে ২৬টি জঙ্গিবাদ-বিষয়ক বই, তিনটি পাসপোর্ট, গুপ্তচরবৃত্তির কাজে ব্যবহৃত (স্পাই) একটি মোবাইলসহপাঁচটি মোবাইল ফোনসেট, চার হাজার পাকিস্তানি মুদ্রা, দেড় হাজার ভারতীয় মুদ্রা, এক হাজার ৩০০ বাহরাইনের মুদ্রাও এক হাজার ৬০০ জর্ডানের মুদ্রা পাওয়া গেছে।

    পকেটে স্পাই মোবাইল। বাংলাদেশে বসে কথা বলছেন আর তা রেকর্ড হয়ে ভিডিও আকারে চলে যাচ্ছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার কাছে। সহযোগিতায় রয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাক হাইকমিশনের এক নারী কর্মকর্তা। চলছে জেএমবির জঙ্গি কার্যক্রম।

    গোয়েন্দা পুলিশের হাতে আটক ইদ্রিস শেখের জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা সম্পর্কে এমন ভয়াবহ সব তথ্য দিয়েছেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম।

    তিনি জানান, ১৯৮৫ সালে দালালের মাধ্যমে ভারতে যায় ইদ্রিস। পরে ভারত থেকে পাকিস্তানে ঢোকেন তিনি। ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের এক নাগরিককে ইদ্রিস বিয়ে করেন।’

    পরে ইদ্রিস পাকিস্তানে শুধু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িতই ছিলেন না, একবার জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণও করেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘২০০২ সালে ইদ্রিস পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল পাক মুসলিম অ্যালায়েন্স-এর পক্ষে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পরাজিত হন। এরপর ২০০৭ সালে তিনি আবার বাংলাদেশে আসেন এবং জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেন।’

    ‘বাংলাদেশে আসার পর বাগেরহাটের একটি ঠিকানা ব্যবহার করে ইদ্রিস শেখ পাসপোর্ট বানান। গত দুই বছরে তিনি ৪৮ বার পাকিস্তানে প্রবেশ করেছেন। অর্থাৎ মাসে দুবার করে ইদ্রিস পাকিস্তানে যাতায়াত করেছেন। ২০০৪ সালে পাকিস্তানি সপোর্টসহ একবার র‌্যাবের হাতে আটক হন ইদ্রিস। পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।’

    শুধু ইদ্রিস নয়, আটক জেএমবি সদস্য মকবুলেরও রয়েছে পাকিস্তান কানেকশন। ১৯৮৫ সালে দালালের হাত ধরে ভারত হয়ে পাকিস্তানে যান মকবুল। কাপড় ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি পাকিস্তানে নিয়মিত যাতায়াত করেন। এর আড়ালে তিনি জেএমবির কার্যক্রম পরিচালনা করেন। অর্থও যোগান দেন।

    মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৮৯ সালে মকবুল ভারত হয়ে পাকিস্তানে যান। তিনি ভুয়া পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করেন। পাকিস্তানে অবস্থানরত আবদুল কুদ্দুস নামে এক রোহিঙ্গা নাগরিককের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট যোগাযোগ আছে।’

    ‘শুধু তাই-ই নয়, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের ভুয়া পাসপোর্ট তৈরিতে সহযোগিতা করে আটক জেএমবি সদস্য মকবুল। এভাবে তিনি অনেককে পাকিস্তান, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া পাঠিয়েছেন। পাকিস্তান থেকে আবদুল কুদ্দুসের পাঠানো অর্থ দিয়ে মকবুল জেএমবি কার্যক্রম পরিচালনা করেন।’

    আটক অপর দুই জেএমবি সদস্য ছালাম ও মুস্তফা জামান সম্পর্কে আংশিক তথ্য জানান যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকার এক বিহারী ক্যাম্পে থাকেন ছালাম। তারও পাকিস্তানে নিয়মিত যাতায়াত আছে। মোস্তফা বাংলাদেশি। তিনি পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রাফিক ইন্সপেক্টর।

    মনিরুল ইসলাম জানান, চারজনই ভারতীয় জাল মুদ্রার ব্যবসা করে। জালমুদ্রাগুলো করাচি থেকে এনে ঢাকা হয়ে ভারতে পাচার করে তারা। এর আগে ডিবি পুলিশ যে ৭ পাকিস্তানি নাগরিককে জেএমবি সন্দেহে গ্রেপ্তার করেছিল, তাদের সঙ্গে এই চার জনের ঘনিষ্ট যোগাযোগ আছে।

    জেএমবি এখন তিন গ্রুপে বিভক্ত। গ্রেপ্তারকৃত চারজন বর্তমানে কারাগারে আটক সাইদুর রহমান গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। এরা জেএমবিকে সক্রিয় করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে সরকারকে বিব্রত করতে চায়।

    মনিরুল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে আইএসের সাংগঠনিক ভিত্তির দালিলিক প্রমাণ পাইনি। তবে বর্তমানে যে কয়টি জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশে সক্রিয় তাদের মধ্যে জেএমবি, আনসারুল্লাহ বাংলাটিম এবং হরকাতুল জিহাদ অন্যতম। তিনি জানান, আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের অধিকাংশ গা ঢাকা দিলেও একেবারে নিষ্ক্রিয় নয়। হরকাতুল জিহাদ পুনরুজ্জীবিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। জেএমবি তিন ধারায় বিভক্ত হয়ে কাজ করছে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কারাগারে বন্দী জেএমবির আমির সাইদুর রহমানের সঙ্গে গ্রেপ্তার ওই চারজনের যোগাযোগ ছিল। তাঁরা জাল মুদ্রা ভারতে পাচার করেন। সেখান থেকে অর্জিত অর্থ নিজেরা খরচ করেন। বাকি টাকা জঙ্গি কর্মকাণ্ডে দিয়ে থাকেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, দেশে নাশকতার ঘটনা ঘটিয়ে সরকারকে বিব্রত করা। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় দুটি ও খিলগাঁও থানায় একটি মামলা হয়েছে।

    জঙ্গি দমনে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জিরো টলারেন্স নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান ডিএমপির এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

    জঙ্গিবাদ দমনে অভিভাবক, শিক্ষক ও মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, আশা
    করি সব পক্ষ সহযোগিতা করবে।

    তথ্যসূত্র : বিডিলাইভ২৪।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: পাকিস্তানি গুপ্তচর ও জেএমবির ভয়াবহ পরিকল্পনা Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top