ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে উদগ্রীব ভারত - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে উদগ্রীব ভারত - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭
  • Latest News

    বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৫

    ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে উদগ্রীব ভারত

    আন্তর্জাতিক ডেক্স : ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি ইসরাইলে এক সফর শুরু করেছেন। এই প্রথম ভারতের কোনো সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা ইসরাইল গেলেন। এ সফরের তিনদিন তিনি কাটাচ্ছেন ইসরাইলে। আর একদিনের জন্য তিনি ফিলিস্তিনেও গেছেন। আরব লীগের বাইরে বিশ্বের প্রথম যে দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছিল সেটি হলো ভারত।

    পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইসরাইলের সঙ্গে ভারতের যে সম্পর্ক, তা আরো ঘনিষ্ঠ করার ক্ষেত্রে ভারতের যে আর কোনো দ্বিধা নেই, রাষ্ট্রপতির সফর তারই প্রমাণ।

    ইসরাইলে প্রণব মুখার্জির এই সফর কতটা গুরুত্বপূর্ণ? ভারত কি তাহলে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবি থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে?

    দিল্লির জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অশ্বিনী রায় বলছেন, "কয়েক বছরে ধরেই ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নতি হচ্ছে এবং সেটা হচ্ছে আরব দেশগুলোর সাথে সু সম্পর্ক রেখেই।"

    তিনি বলেন প্রেসিডেন্ট যখন গেছেন তখন সেটা কেবিনেটের সমর্থন নিয়েই গেছেন। সুতরাং সেখানে সরকারের অবস্থানেরই প্রতিফলন ঘটেছে।

    ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে ফিলিস্তিনের সাথে সম্পর্কে কেমন প্রভাব হবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি মি. রায় বলেন, "ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার ব্যাপারে ভারতের দ্বিমত নেই ও ভারত প্রথম থেকেই তা সমর্থন করছে। পাশাপাশি ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক উন্নতি করা হচ্ছে। প্রেসিডেন্টের সফর তারই প্রতিফলন।"

    তিনি বলেন, " ফিলিস্তিনের ব্যাপারে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত পরিষ্কার। তাদের স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতার প্রতি সমর্থন রয়েছে ভারতের। আর এখন অনেক আরব দেশও ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে শুরু করছে।"

    মি. রায়ের মতে ইসরাইল ও আরবের সাথে এখন একযোগে সম্পর্ক রাখার বিষয়টিই উঠে আসছে প্রেসিডেন্টের সফর থেকে।

    প্রতিবাদের মুখে প্রণব মুখার্জি
    বয়কট করো জায়নবাদকে- রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে সামনে পেয়ে ভারতের কাছে দাবি তুললো ক্ষুব্ধ প্যালেস্তিনীয় ছাত্ররা।

    উদ্দাম প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে প্রণব । উত্তেজনা এড়াতে একটি মাধ্যমিক স্কুলের উদ্বোধন পর্যন্ত বাতিল করতে হয়। চরম অস্বস্তিতে দৃশ্যতই বিব্রত রাষ্ট্রপতি। নয়ের দশক থেকে ভারতের বিদেশ নীতির ক্রমশ দক্ষিণপন্থী ঝোঁকের আন্তর্জাতিক প্রতিফলন দেখল দিল্লি।

    পূর্ব জেরুজালেমে আল কুদস বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ কেন্দ্র উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন প্রণব মুখার্জি। ভাষণ শেষ হতেই মঞ্চের সামনে দাঁড়ানো ছাত্ররা স্লোগান দিতে শুরু করে। হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘আপনাকে শুনতে হবে আমাদের কথা।’ নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে গাড়িতে উঠিয়ে বের করে নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত চলে স্লোগান। কয়েকশ’ প্রতিবাদী ছাত্রর আকাশ ফাটানো স্লোগান, ‘ভারত, কেন তোমরা সাহায্য করছ দখলদারদের (ইসরাইলকে)’, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি, সরব হোন ইসরাইলের বিরুদ্ধে’, ‘ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্যালেস্তিনীদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে নীবর থাকবেন না।’

    একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা: ‘প্রিয় ভারত, বয়কট করো জায়নবাদকে, আমাদের হত্যাকারীকে, আমাদের কশাইকে।’

    জেরুজালেমের একেবারে গা ঘেঁষেই আল কুদস বিশ্ববিদ্যালয়। আবু দিসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কোণের প্রাচীরের মিটারকয়েক দূরেই ইসরাইল চালিয়ে যাচ্ছে বেআইনি নির্মাণ। ‘সাম্প্রতিক হামলায় নিহত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র। মুহম্মদ আব্বাসের প্যালেস্তিনীয় সরকার কিছুই করেনি। আমরা চাই নিরীহ জনগণের উপর এই নৃশংস হামলা বন্ধে তারা কিছু করুক।’ দ্য হিন্দু পত্রিকাকে বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের ছাত্র আমনদা জারিফ।

    প্যালেস্তাইনের কমিউনিস্ট পার্টির বিশ্ববিদ্যায় ইউনিটের নেতা জারিফ। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে একইসঙ্গে ভারত সরকার ও প্যালেস্তিনীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছি। বিশ্ব কথা বলুক আমাদের জন্য। বিশ্ব কথা বলুক ইসরাইলী নৃশংসতার বিরুদ্ধে।’

    ‘ওই প্রাচীরটা দেখছ?’ সেদিকে নিশানা করে জারিফ বলেন, ‘ওটা হলো বর্ণবৈষম্যের প্রাচীর, আরবদের ওপারে যাওয়ার অনুমতি নেই। কারো কোনও উদ্বেগ নেই। আমরা ওখানে কালো পতাকা তুলব এখন, প্রতিবাদের অংশ হিসেবে।’

    প্রতিবাদের উত্তাপ দেখে প্রণব মুখার্জি আর সময় নেননি। সফর কাটছাঁট করে দ্রুত সড়কপথে রওনা দেন ইসরাইলের উদ্দেশে। ঠিক ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান শেষে জওহরলাল নেহরুর নামে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি। কিন্তু উত্তেজনার কারণে ওই অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। এই প্রথম প্যালেস্তাইনে প্রতিবাদের মুখে ভারতের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান। এই প্রথম ভারতের কোনো রাষ্ট্রপতি ইসরাইলে। তার আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে প্রণব মুখার্জিকে ‘নাইট অব পিস’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

    প্যালেস্তিনীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে উপহার দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতির আনা চারটি ‘কমিউনিকেশন ডিভাইস’ আগেই আটকে দিয়েছে ইসরাইল। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেগুলি রেখে দেওয়া হয় তেল আবিবের বেন গুরিয়েন বিমানবন্দরে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপের সাফাই, ‘নির্দিষ্ট কম্পাঙ্কের চারটি কমিউনিকেশন ডিভাইসকে অনুমতি দেয়নি ইসরাইল, তাদের নিয়মবিধি একে অনুমোদন না দেওয়ার কারণে। আমরা এর বিকল্প কমিউনিকেশন ডিভাইস পাঠাব, যার কম্পাঙ্ক হবে আলাদা।’ এভাবেই ভারত প্যালেস্তাইনকে কী উপহার দেবে, তা ঠিক করে দিয়েছে ইসরাইল। বক্তৃতা থেকে আব্বাসের সঙ্গে আলোচনায় ‘প্যালেস্তাইন আরবদের’ বার্তা দেওয়া থেকে ইয়াসের আরাফতের প্রসঙ্গ, কিংবা গান্ধীজীর অবস্থান টেনে আনলেও, তা আশ্বস্ত করতে পারেনি প্যালেস্তিনীয় জনগণকে।

    ১৯৯২-তে এসে ইসরাইল ভারতে পূর্ণ দূতাবাস তৈরি করতে পারলেও, দিল্লির সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্ক নতুন দিকে মোড় নেয় অটলবিহারী সরকারের আমলে। লাল কৃষ্ণ আদবানি ২০০০সালে যান ইসরাইল সফরে। তখন তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেখা করেন সেদেশের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধানের সঙ্গে। দু’বছর বাদে ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইমন পেরেজ আসেন নয়া দিল্লি সফরে। এই সফরকে উভয় দেশই অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ২০০৩, এরিয়েল শ্যারন ভারত সফরে এলে বি জে পি বিবৃতি দিয়ে বলে, ‘ভারত ও ইসরাইল উভয়ই যখন সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তখন আমাদের পরস্পরের থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত’। এই সূত্রায়ন থেকেই ইসরাইল-ভারত সম্পর্কের বিন্যাস বদলে যেতে থাকে। মোদী এসে বৃত্ত সম্পন্ন করেন।

    অথচ, ভারতীয়রা বরাবরই প্যালেস্তিনীয় দাবিগুলিকে সমর্থন করে এসেছে। প্যালেস্তাইনের উপরে অবৈধ দখলদারির বিরোধিতা করেছে। আগাগোড়াই প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক ও গাজা ভূখণ্ডের উপরে অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে। ইয়াসির আরাফত ছিলেন ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র। জোট নিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা। আরবীয় নয় এমন দেশগুলির মধ্যে ভারতই সবার আগে, ১৯৭৪ সালের প্যালেস্তিনীয় জনগণের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি হিসাবে প্যালেস্তাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন (পিএলও)-কে স্বীকৃতি দেয়। আরব দুনিয়ার বাইরে ভারতই প্রথম, যারা ১৯৮৮সালে প্যালেস্তাইনকে দেয় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে স্বীকৃতি। প্যালেস্তাইন জাতীয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৬ সালে প্যালেস্তাইনের রামাল্লায় ভারত খোলে তার প্রতিনিধি অফিস।

    প্রধানমন্ত্রী থাকার সময় ইন্দিরা গান্ধী ইসরাইলের আক্রমণের শিকার প্যালেস্তিনীয় জনগণ ও আবর দেশগুলির স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে নেন জোরালো অবস্থান।বস্তুত, রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার বহু আগেই প্যালেস্তিনীয় জনগণের জন্য ঐক্যবদ্ধ স্বাধীন প্যালেস্তাইন রাষ্ট্র গঠনে পূর্ণ সমর্থন জানায় জাতীয় কংগ্রেস। ১৯৩৬, প্যালেস্তাইনের প্রতি সংহতি জানিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠায় কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি। ওই বছর ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতে পালিত হয় ‘প্যালেস্তাইন দিবস’।-সংবাদসংস্থা
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে উদগ্রীব ভারত Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top