আইএস নেতার হাত থেকে ইরানী তরুণীর মুক্তির গল্প - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ আইএস নেতার হাত থেকে ইরানী তরুণীর মুক্তির গল্প - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭

728x90 AdSpace

  • Latest News

    Monday, September 21, 2015

    আইএস নেতার হাত থেকে ইরানী তরুণীর মুক্তির গল্প

    বিশেষ প্রতিবেদক : ইরানের ১৮ বছরের তরুণী জালিলা (ছদ্মনাম)। ইসলামিক স্টেট সদস্যদের হাতে অপহৃত হওয়ার পর মার্কিন সৈন্যদের এক অভিযানে পর মুক্তি পেয়েছে সে। মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা পূর্ব সিরিয়ার দেইর-ইজোর শহরে অভিযান চালিয়ে তিউনেশিয়ার আইএস সদস্য আবু সায়াফকে হত্যা এবং তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করলে মুক্তি পায় জালিলা। আর মুক্তি পাওয়ার পর তার বন্দিদশার গল্প শুনিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্টকে।

    ইন্ডিপেন্ডেন্টের ঐ প্রতিবেদকের সাথে কথা বলা সময় খুব চিন্তিত ছিলেন জালিলা। জালিলা জানান, অপহরণের পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় ইরাকের দ্বিতীয় শহর মসুলে। বন্দিদশায় আইএস সদস্যদের লোলুপ দৃষ্টি থেকে রক্ষা পেতে ভান করতেন বিবাহিত নারীর ন্যায়। অবশ্য এরকম ভান করে থাকে তাদের হাতে বন্দি অন্যান্য ইয়াজেদি নারী। কিন্তু কিছুদিন পরেই ধরা পড়ে যায় জালিলার ভান।

    জালিলার যখন তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলতে চান এবং দেখতে যেতে চান তখন আইএস সদস্যদের সাথে তার তর্ক বেধে যায়। তিনি বলেন, ‘তোমরা ধর্ম ও জিহাদের নাম করে যা করছো সে কাজকে আসলে ধর্ম সমর্থন করে না। তোমরা মূলত তরুণীদের যৌন হেনস্থা করছে।’

    আইএসের কাজকে সমর্থন না করায় তাকে স্থান পরিবর্তন করে পাঠানো হয় আইএস নেতা আবু সায়াফের বাসায়। সায়াফের কাছে পাঠানো হয় তার স্ত্রী উম্মে সায়াফকে সহায়তার জন্য।

    আবু সায়াফ সম্পর্কে বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আবু সায়াফ কালো কোঁকড়া চুলধারী। সে দেখতে মাঝাড়ি গড়নের এবং কপালে একটি ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আবু সায়াফ ছিল আইএসের উচ্চ পর্যায়ের একজন সদস্য। জামিলার মুক্ত হওয়ার অভিযানে তার মৃত্যু হয়। নিহত হন তাদের হাতে বন্দি থাকা কায়লা মুলার নামের এক মার্কিন নাগরিক।বন্দি হয় সায়াফের স্ত্রী উম্মে সায়াফ।

    প্রথম দেখাতেই জালিলাকে অপছন্দ করেন উম্মে সায়াফ। সেকারণেই নিগ্রহের স্বরে তিনি তাকে রান্না করার জন্য বলেন। কিন্তু জালিলা তাকে জানায়, ‘আমি রান্না করতে পারি না।’ এ বাড়িতে তার আগে আসা তরুণীকেই বেশি পছন্দ করতেন উম্মে সায়াফ। আর জালিলা সম্পর্কে প্রায়ই স্বামীর নিকট অভিযোগ দিতেন। একদিন এক অভিযোগের পর আবু সায়াফ জালিলার গালে চড় দেন।

    এছাড়া উম্মে সায়াফ একদিন জালিলার দিকে লোড করা বন্দুক তাক করে বলেন, ‘তুমি একটা গণ্ডগোল পাকাও যাতে আমরা তোমাকে কিছু বলতে পারি এবং তোমার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি।’

    জালিলা জানায়, সেখানে থাকা অবস্থায় সকলের চোখে সন্দেহের দৃষ্টিত থাকতেন হতো। বেশিরভাগ সময়েই বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা তাকে খুঁজে ফিরতো। সে কোথায় থাকতো, কি করতো সব কিছুই নজরদারিতে রাখার চেষ্টা করতেন তারা।

    উম্মে সায়াফের বর্ণনায় জালিলা জানায়, বেশিরভাগ সময়েই ঘরের উপরের তলায় অবস্থান করতেন তিনি। দিনের বেশিরভাগ সময় ব্যয় করতেন বাড়িতে আসা নারীদের বিভিন্ন বিষয় বোঝাতে।

    আবু সায়াফকে খারাপ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে জালিলা জানায়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা বলতেন আবু সায়াফ তিউনিশিয়ার নাগরিক এবং ইরাকে মার্কিন বাহিনীর অভিযান কালে আবু সায়াফ দেশটিতে প্রবেশ করেন। সায়াফের স্ত্রীও বেশ কঠোর এবং নিষ্ঠুর ছিলেন। ওই বাড়িতে থাকা অন্য এক তরুণী আমাকে বলেছে কোন কাজে অসম্মতি জানালেই উম্মে সায়াফ তাকে নির্যাতন করতেন। সে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতেন আবু সায়াফ। তিনি বেশিরভাগ সময় ১৪ বছরের ওই তরুণীকে কাঠ দিয়ে মারতেন।’

    পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা আবু সায়াফকে হত্যার করার অভিযান সম্পর্কে নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছিলেন, শিশু ও নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছিলেন আবু সায়াফ। তবে জালিলা সায়াফের মধ্যে এরকম কিছু দেখেননি বলে জানান ইন্ডিপেন্ডেন্টের ঐ প্রতিবেদককে। তার মতে ওই গ্রুপে প্রায় ৫০ জন সদস্য ছিলেন। তারা এম১৬এস বন্দুক বহন করতেন এবং তাদের হেলমেটে ছোট লাইট ছিল।

    জালিলা যে ভবনে থাকতেন সেখানে আইএসের আরো সদস্যরা থাকতেন। আবু সায়াফের সহকারী আবু তামিম নামের একজন, যিনি বন্দুকযুদ্ধে স্ত্রীসহ নিহত হন, একই সাথে নিহত হয় তার বোন এবং বোনের স্বামী।

    মার্কিন সেনারা সাংবাদিকদের ক্ষুদ্র যে বর্ননা দিয়েছেন সেখানে তারা বলেছেন, ওই অভিযানে প্রায় এক ডজন আইএস সদস্য নিহত হন। কিন্তু জালিলা সেখানে দেখতে পেয়েছেন মাত্র চারটি মরদেহ। জালিলার ধারনানুযায়ী সেখানে অনুবাদক হিসেবে এক কুর্দি নারী থাকতেন এবং আরবিতে কথা বলতেন এমন এক নারীও থাকতেন।

    স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেকে ইয়াজেদি নারী হিসেবে দাবী করেন উম্মে সায়াফ। কিন্তু সেনাদের মূল সত্য বলে দেন জালিলা।

    এটাই ছিল আইএসের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সফল অভিযান। এরআগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের রক্ষার জন্য মার্কিন সেনারা অভিযান চালালেও তা সফল হয় নি।

    জালিলা বলেন, মার্কিন সেনাদের সাথে থাকা অবস্থায় তারা তাকে সহায়তা করেছ্। এরপর মার্কিনিরা তাকে ভিসা দেওয়ার কথা বললে তা প্রত্যাখান করেন তিনি।

    নিজের পরিবারের ১৪ জন আইএসের সদস্য হওয়ার কথা জানিয়ে ইন্ডিপেন্ডেন্টের ঐ প্রতিবদেকরে কাছে নিজের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ জানায় জালিলা। তবে তারা বেঁচে আছেন কি মরে গেছেন সে বিষয়ে কোন কিছুই জানা নেই জালিলার।

    সেনা অভিযানের সময় ভয় পেয়েছিলেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মোটেই ভীত ছিলাম না। আমি জানতাম হয়তো আমি মুক্তি পাব, না হয় মরে যাব। তাদের কাছে বন্দি থাকার চাইতে আমার মরে যাওয়া অনেক ভাল ছিল।’

    তবে অপহরন হওয়ার এ বিষয়টাকে জীবনের একটি ক্ষুদ্র দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখেন জালিলা। তার মতে জীবন মানেই তো চড়াই উৎরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যাওয়া।

    সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: আইএস নেতার হাত থেকে ইরানী তরুণীর মুক্তির গল্প Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top