কিশোরগঞ্জে তিতাস! অবৈধ গ্যাস সংযোগ চলছে - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ কিশোরগঞ্জে তিতাস! অবৈধ গ্যাস সংযোগ চলছে - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭
  • Latest News

    বৃহস্পতিবার, আগস্ট ০৬, ২০১৫

    কিশোরগঞ্জে তিতাস! অবৈধ গ্যাস সংযোগ চলছে

    স্টাফ রিপোর্টার : ১৯৯৪ সালে প্রথম কিশোরগঞ্জ শহরে গ্যাস সংযোগ চালু হয়। ২০১০ সালের ১৩ জুলাই পর্যন্ত সংযোগ দেয়া চলে। পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশে তিন বছর বন্ধ থাকার পর ফের ২০১৩ সালের ১৪ মে থেকে নতুন করে গ্যাসের আবেদন জমা রাখতে শুরু করে তিতাস গ্যাস। এখন পর্যন্ত সাত হাজার ৪২টি রাইজারসহ সংযোগ রয়েছে। আর বৈধ চুলার সংখ্যা রয়েছে অন্তত ১১ হাজার ৪৪১টি। আর এখনো নতুন সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে তিন হাজার ২৯৮টি রাইজারসহ নতুন গ্রাহক। আর তিতাসের বাড়তি এ সংযোগকে ঘিরেই চলছে নজিরবিহীন অনিয়ম-দুর্নীতি। গ্রাহকরা জিম্মি হয়ে পড়েছে অসাধু কর্মকর্তাদের হাতে।

    কিশোরগঞ্জ জেলা শহরে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে চলছে অনিয়ম আর দুর্নীতির মহোৎসব। সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নিয়ে দেয়া হচ্ছে গ্যাস সংযোগ। আর এ গ্যাস সংযোগককে কেন্দ্র করে ঠিকাদার আর তিতাসের কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় থাকা গ্রাহকদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে তারা হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক কোটি টাকা।

    শুধুমাত্র গ্যাস সংযোগ পাওয়ার আশায়, কোনো প্রতিবাদ করতে পারছে না গ্রাহকরা। আর গ্রাহকদের জিম্মি করে দিনের পর দিন ওই চক্র চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কর্মকাণ্ড।

    অভিযোগ রয়েছে, সময়মত গ্যাস সংযোগ পাইয়ে দেয়ার নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করছেন ঠিকাদাররা। কিন্তু বাড়তি টাকা দেয়ার পরেও অনেক গ্রাহক সংযোগ পাচ্ছেন না। এমনকি বাড়তি টাকা দিয়ে বছরের পর বছর গ্যাস সংযোগের জন্য ঘুরছেন অনেকেই।

    ঠিকাদার আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভ আর তিতাসের বাড়তি গ্যাস খরচ তো হচ্ছেই, একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এ অনিয়ম। কার্যত কোনো পদক্ষেপই নেয়া হচ্ছে না। ফলে, দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে সিন্ডিকেট।

    কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া, হয়বতনগর, বত্রিশ, হারুয়া, আখড়াবাজার, গাইটাল, আলোরমেলাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে গ্যাস সংযোগে অনিয়মের নানা চিত্র। আবাসিক বাসা-বাড়িতে নতুন সংযোগ দেয়ার ক্ষেত্রে তিতাস গ্যাসের কোনো নীতিমালাই মানা হয়নি। হেডার পয়েন্ট (মূল সংযোগ) নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করার কথা থাকলেও, প্রত্যেকের নতুন সংযোগের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা করে পয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এতে, একদিকে যেমন বাড়তি টাকা গুনতে হয়েছে গ্রাহকদের, তেমনি আলাদা করে হেডার পয়েন্ট স্থাপনের ফলে তিতাসের অতিরিক্ত গ্যাসও অপব্যয় হবে।

    তিতাসের নীতিমালায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, কোনো আবাসিক বাসা-বাড়িতে নতুন সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ৫০ ফিট পর্যন্ত বৈধ। এর অধিক হলে, যদি তা কানা গলি হয় (তিতাস গ্যাসের ভাষায়) বাড়ির শেষ প্রান্তে তাহলে, গ্রাহকের আবেদনের প্রেক্ষিতে যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে একটি বাসায় সংযোগ দেয়া যেতে পারে। কিন্তু কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে এর উল্টো চিত্র।

    শহরের হয়বতনগর এলাকার দাখিল মাদরাসার সামনে কয়েকশ ফুট দুরত্ব থেকে ৫টি নতুন সংযোগ দেয়া হয়েছে পনের দিন আগে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় ঠিকাদার এসব নতুন সংযোগের জন্য প্রতি গ্রাহকের কাছ থেকে বাড়তি ৬০ থেকে ৭০ হাজার করে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, নীতিমালার তোয়াক্কা না করে, প্রত্যেক লাইনের জন্য আলাদা আলাদা করে রাইজার পয়েন্ট বসানো হয়েছে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

    তিতাসের ভাষায়, শুধুমাত্র কানা গলির জন্য একটি হেডার পয়েন্ট স্থাপন করা যাবে। পরবর্তীতে সেখান থেকে আশপাশের আরও বাসায় সংযোগ দেয়া যাবে।

    নতুন সংযোগ পাওয়া পাঁচ গ্রাহকের মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানান, স্থানীয় ঠিকাদার বদরুল ইসলাম নয়নের কাছে তিনি ৭০ হাজার টাকা দিয়ে সংযোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর সংযোগ পেয়েছি। তাই, বাড়তি টাকা গেলেও, তাতে কোনো আপত্তি নেই। তবে, যদি একটা হেডার পয়েন্ট দিয়ে পাঁচটি সংযোগ দেয়া হতো, তাহলে প্রত্যেকের অনেক কম খরচ লাগতো। ওই ঠিকাদার সবার কাছ থেকে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা করে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

    তিতাস গ্যাস অফিস সূত্রমতে, একজন গ্রাহক যেখানে মূল লাইন থেকে ৫০ ফুট দূরত্বে তার ঘরে ডাবল অথবা সিঙ্গেল বার্নার সংযোগ নেবে, সেখানে পাইপ খরচ, সংযোগ ফ্রি ও কমিশনিংসহ সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা হলেই চলে। অথচ গ্রাহকের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত।

    বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো বাড়িতে অথবা পাশাপাশি ৫ থেকে ৭ ঘরে একই সময়ে সংযোগ নিচ্ছে। অথচ প্রত্যেককে আলাদা আলাদা লাইনে গ্যাস সংযোগ নিতে হচ্ছে।

    জানতে চাইলে গ্যাস ঠিকাদার (উপ-ঠিকাদার) মোবারক হোসেন আঞ্জু বলেন, মূল সংযোগ থেকে ৫০ ফুট পর্যন্ত একজন গ্রাহক গ্যাস সংযোগ নিতে পারবেন। এ জন্য গ্রাহককে সাত হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। কিন্তু ৫০ ফুটের বেশি হলে টাকার অংকটা ঠিকাদার-গ্রাহক আলোচনা সাপেক্ষে ঠিক করে নেয়।

    আলোচনা করে ঠিক করে নেয়াটা বৈধ কিনা জানকে চাওয়া হলে মোবারক হোসেন আঞ্জু বলেন, ‘বৈধ-অবৈধ জানি না, গ্রাহক গ্যাস পাচ্ছেন, এটাই বড় কথা। আর হেডার পয়েন্ট দিয়ে একসঙ্গে এতগুলো লাইন দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তর জানা নেই বলে এড়িয়ে যান।

    অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারের সাথে স্থানীয় তিতাসের উপ-ব্যবস্থাপক হযরত আলী, সহকারী ব্যবস্থাপক আনোয়ার হোসেন খান ও হিসাব কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনসহ বেশ কয়েকজন এই অনিয়মের সাথে জড়িত।

    উপ-ব্যবস্থাপক হযরত আলী অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনার সাথে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, গ্রাহক যদি ঠিকাদারকে বাড়তি টাকা দিয়ে থাকে, তাহলে তা আমাদের কাছে অভিযোগ করতে হবে। যদি কোনো অভিযোগ পাই, সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: কিশোরগঞ্জে তিতাস! অবৈধ গ্যাস সংযোগ চলছে Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top