মোদি-শরীফ বৈঠক, যেভাবে দেখছে পাক-ভারতীয় গণমাধ্যম - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭ মোদি-শরীফ বৈঠক, যেভাবে দেখছে পাক-ভারতীয় গণমাধ্যম - Tangail Darpan | Online Bangla Newspaper 24/7 | টাঙ্গাইল দর্পণ-অনলাইন বাংলা নিউজ পোর্টাল ২৪/৭
  • শিরোনাম

    শনিবার, ১১ জুলাই, ২০১৫

    মোদি-শরীফ বৈঠক, যেভাবে দেখছে পাক-ভারতীয় গণমাধ্যম

    রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল শুক্রবার সকালে বৈঠকে বসেছিলেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানী প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। গত বছরের মে মাসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর এই প্রথম আবারো দেখা হলো এই দুই প্রধানমন্ত্রীর।

    মে’ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিবেশী আরো অনেক দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন নওয়াজ শরীফও। দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্ক পেরিয়ে ভারত-পাকিস্তান সামনে এগোতে পারবে বলেই সেবার ধারণা করেছিল সংশ্লিষ্টরা।

    কিন্তু তারপর থেকেই সম্পর্কের উন্নতির বদলে বরং তা আরো খারাপের দিকে যাচ্ছিল এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তান হস্তক্ষেপ করছে- এমন অভিযোগ এনে গত আগস্টে পাক প্রশাসনের সাথে পূর্ব-নির্ধারিত আলোচনা বাতিল করে ভারতীয় প্রশাসন।

    স্বাধীনতা পরবর্তীকালেও ভারত ও পাকিস্তান তিনবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছিল, এর মধ্যে দু’টোই ছিল কাশ্মীর সীমান্তে।

    দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্কপূর্ণ প্রতিবেশী এই দুই দেশের সরকারপ্রধানের হঠাৎ বৈঠকের বিষয়টি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন দুই দেশের রাজনীতিবিদ, পররাষ্ট্র ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এবং গণমাধ্যমগুলোও।

    ২০১৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতামূলক জোট সংস্থা- সার্কের শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে পাকিস্তানে যাওয়ার বিষয়ে পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    শুক্রবার রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে শরীফের সাথে মোদির দেখা হওয়ার পর পর প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।

    কিন্তু মোদি ও শরীফের সাক্ষাতের বিষয়টি ভালোভাবে নেননি পাক রাজনীতিবিদরা।

    পাক সিনেটর ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক এক বিবৃতি প্রকাশের মাধ্যমে জানিয়েছেন বিষয়টিকে তিনি কোন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন।

    মোদিকে ‘রাশিয়ার জার’র সাথে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক এই বৈঠকে এটা পরিষ্কার ছিল যে শরীফের প্রতি মোদি কতোটা অশ্রদ্ধাশীল। মোদির সাথে হাত মেলাতে তার আসন পর্যন্ত একটি করিডোরের দীর্ঘ পথ আমাদের প্রধানমন্ত্রী হেঁটে গেলেও স্বাভাবিক সৌজন্য দেখিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে কয়েক পা এগিয়েও আসতে পারেননি মোদি, যা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত।’

    একই সুর শোনা গেছে পাকিস্তানের বিরোধী দলীয় অনেক নেতার কণ্ঠেই।

    অবশ্য রেহমান মালিকের এই বক্তব্যকে ‘ইঁদুরের গর্তে পাহাড় দেখার’ সাথে তুলনা করছেন নওয়াজ শরীফের মুখপাত্র ড. মুসাদ্দিক মালিক।

    তার মন্তব্য, ‘রেহমান মালিকের মতো বন্ধু থাকলে আমাদের আর শত্রুর কী প্রয়োজন?’

    অন্যদিকে ভারতীয় দৈনিক টাইমস অব ইন্ডিয়া ‘মোদি-শরীফ বৈঠক: কয়েক ধাপ এগিয়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন পাক প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘…এই বৈঠক বেশ কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। জঙ্গিবাদ দমনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ এই নেতারা মৌখিকভাবে একমত হতে পারলেও শেষ পর্যন্ত নওয়াজ শরীফ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন কি?’

    দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা শিথিল করতেই এই বৈঠক, উল্লেখ করেছে পাকিস্তানী দৈনিক ডন।

    ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শংকরের সূত্র উল্লেখ করে বলা হয়, দুই প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বিষয়ে একমত হয়েছেন-

    ১. সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টাদের মধ্যে ভারতীয় রাজধানী নয়া দিল্লিতে বৈঠকের ব্যবস্থা করা;

    ২. ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ এবং পাকিস্তানী সীমান্তরক্ষী বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের মহাপরিচালক পর্যায়ে প্রতি বছর নিয়মিত বৈঠক এবং একইভাবে দুই দেশের সামরিক অভিযানের মহাপরিচালকদের মধ্যেও বৈঠকের আয়োজন;

    ৩. দুই দেশে আটক থাকা জেলেদেরকে নৌকাসহ ১৫ দিনের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া;

    ৪. ধর্মীয় পর্যটনক্ষেত্রে কারিগরি কৌশল গ্রহণ;

    ৫. মুম্বাই হামলা ও লাখভি ইস্যুতে পরস্পরকে অতিরিক্ত তথ্য দিয়ে সহায়তায় আলোচনা ইত্যাদি।

    দুই সরকারপ্রধানের মধ্যকার আলোচনাটি গতকাল চলেছে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে। সম্পর্কের উত্তেজনা কমানোর ব্যাপারে যে তারা দু’জনই আন্তরিক, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ না থাকলেও সময়ের সাথে সাথে বিভিন্ন ঘটনায় এই আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক করেছেন তারা নিজেরাই।

    শুক্রবারের আলোচনার শুরুতেই বিতর্কিত কাশ্মীর অঞ্চল বিভক্তকারী পাক-ভারত সীমান্তে গোলাগুলির ঘটনায় এক সীমান্তরক্ষীকে হত্যার দায়ে পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে ভারত।

    দু’টো দেশই পুরোপুরিভাবে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণের দাবি করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে এবং ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের বৈরি সম্পর্কের কারণও কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ। ২০০৩ সালে দেশ দু’টি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে সম্মত হলেও পরবর্তীতে এক-অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগও দুই দেশের প্রশাসন নিয়মিতই করে গেছে।

    জাতিসংঘে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রাখার সময় গত সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন, পাকিস্তানের সাথে তিনি শান্তি আলোচনা চান এবং অবশ্যই সে জন্য পাকিস্তানকে ‘সঠিক পরিবেশ’ তৈরি করতে হবে।

    শুক্রবারের বৈঠককে অবশ্য দুই দেশের গণমাধ্যমই নিজ নিজ দেশের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করছে।

    মোদি যেখানে লাখভির বিষয় পাকিস্তান ও চীনের সাথে একরকম যুদ্ধেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, সেখানে গতকালের মৌখিক সম্মতিগুলো ভারতের জন্য বিজয় বলে মনে করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।

    আর দুই দেশের সাম্প্রতিক তিক্ততা নিরসনে নওয়াজ শরীফের মোদির দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়া ‘পাকিস্তানের জন্য বিজয়’ বলে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক ডনকে বলেছেন মুসাদ্দিক মালিক।

    ভারতীয় অনলাইন ফার্স্টপোস্টের শিরোনাম ছিল- ‘নওয়াজ শরীফের সাথে মোদির সাক্ষাতে সম্পর্কের চিত্র দ্রুত বদলাবে না ঠিক, কিন্তু এটা শুরু।’

    কিন্তু কেন নওয়াজ শরীফ এবং মোদি দেখা করলেন?

    হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, পাকিস্তানকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন মোদি- দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হতে পারে, তবে তা ভারতের শর্তে।

    ইসলামাবাদ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব দেখালে তাতে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের পরমাণু বিষয়ক দাবিটিই সত্য প্রমাণিত হবে বলে এই কঠোর মনোভাব থেকে সরে আসতে চাইছেন মোদি। কিন্তু ইসলামাবাদের সামনে মাথা নত করতেও রাজি নয় নয়া দিল্লি।

    এক্ষেত্রে সহজ সমীকরণ হলো- বিশ্বের সামনে ভারত আজ একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম ক্ষমতাধর রাষ্ট্র, আর অন্যদিকে পাকিস্তান হলো ব্যর্থতার খাদে পড়তে থাকা একটি রাষ্ট্র। তাহলে ভাঙতে হবে কাকে? স্পষ্ট উত্তর- পাকিস্তানকে।

    তাই আলোচনা হলে তা হতে হবে ভারতের দেয়া শর্ত মেনে।

    এছাড়া বৈঠকশেষে ভারত-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের মধ্যকার সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় কাশ্মীর নিয়ে ভারত কোনো মন্তব্যই করেনি, যা সোজাভাবে নেয়নি পাকিস্তানের কোনো রাজনীতিবিদ ও সংবাদমাধ্যম- জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

    পাকিস্তানী সংবাদমাধ্যম জিও টিভি জানিয়েছে, ভারতের ইচ্ছাতে নওয়াজ শরীফ সাড়া দেয়াতেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    • Blogger Comments
    • Facebook Comments
    Item Reviewed: মোদি-শরীফ বৈঠক, যেভাবে দেখছে পাক-ভারতীয় গণমাধ্যম Rating: 5 Reviewed By: Tangaildarpan News
    Scroll to Top