অবশেষে ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ডা. তাসনিম জারা
অনলাইন ডেস্ক:
আগামি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি, ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত শুনানিতে তার দায়ের করা আপিল মঞ্জুর করা হয়। এ সময় নির্বাচন কমিশন তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে।
তাসনিম জারা প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তাসনিম জারা। পোস্টে তিনি লিখেছেন, আপিল মঞ্জুর হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ। আসন্ন নির্বাচনে ঢাকা ৯ আসনে জনগণের সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করছি।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্র ফিরে পেতে সোমবার (৫ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল করেন ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও এনসিপির সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।
এর আগে গত ৩ জানুয়ারি ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করেন।
আপিলের জন্য আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অঞ্চল ভিত্তিক ১০টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ৯ জানুয়ারি বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বা প্রার্থীর ক্ষমতাপ্রাপ্ত যে কেউ ইসিতে আপিল করতে পারবেন।
আপিল নম্বর অনুযায়ী শুনানির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০, ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট সব আপিলের শুনানি হবে।
শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল নির্বাচন ভবনের মনিটরে প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের ই-মেইলে রায়ের পিডিএফ কপি পাঠানো হবে। নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকেও রায়ের অনুলিপি সংগ্রহ করা যাবে। ১০ থেকে ১২ জানুয়ারির শুনানির রায় ১২ জানুয়ারি, ১৩ থেকে ১৫ জানুয়ারির রায় ১৫ জানুয়ারি এবং ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারির রায় ১৮ জানুয়ারি বিতরণ করা হবে।
আপিল নম্বর অনুযায়ী শুনানির সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০, ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট সব আপিলের শুনানি হবে।
রাজনীতি
শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় তারেক রহমানের
অনলাইন ডেস্ক:
দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর প্রথমবার দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
শনিবার বেলা সোয়া ১১টায় শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েই তারেক রহমান একে একে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ও খোলামেলা আলাপচারিতা।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ না থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এই শুভেচ্ছা বিনিময়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন চ্যানেল, রেডিও, সংবাদ সংস্থা ও অনলাইন মাধ্যমের সম্পাদক ও শীর্ষ নির্বাহীরা অংশ নেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “অনেকগুলো বছর সংগত কারণেই দলের প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের গণমাধ্যম সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি দেখা সাক্ষাৎ কিংবা শুভেচ্ছা বিনিময় হয়নি। সেই অভাব থেকেই দলের পক্ষ থেকে এই আয়োজন।
তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে দেড় যুগ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সপরিবারে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মারা যান।
এই শোকের মধ্যেই দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত আসে। এর দশ দিনের মাথায় শনিবার রাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর পরদিনই প্রথম কর্মসূচি হিসেবে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দলের নেতাদের মতে, এই আয়োজনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ আরও সুসংহত হবে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।
দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফেরার পর প্রথমবার দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় গণমাধ্যমের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
রাজনীতি
স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা; শুটারসহ আটক ৩
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর কাওরানবাজারের তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার গভীর রাতে প্রধান শুটারসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
মানিকগঞ্জ এবং গাজীপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল তিনজনকে আটক করেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, অভিযুক্ত শুটার জিনাত এবং সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী বিল্লালসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তৃতীয় ব্যক্তি এই দুজনের সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৭ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তেজতুরী বাজারের স্টার হোটেলের গলিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মোসাব্বির (৪৫) নিহত হন। এঘটনায় তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
রাজধানীর কাওরানবাজারের তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান মোসাব্বিরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় শুক্রবার গভীর রাতে প্রধান শুটারসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
আলোচিত খবর
স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।
৯ জানুয়ারি, ২০২৬ শুক্রবার দলটির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য হয়। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী (শুক্রবার) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শূন্য পদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এর মাধ্যমে তিনি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং যথাযথবাবে দায়িত্বও পালন করবেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান।
রাজনীতি
জিয়া উদ্যানে খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন নিয়ে আলোকচিত্র প্রদর্শনী
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকা'র উদ্যোগে জিয়া উদ্যানে দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
সাধারণ একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির জটিল মঞ্চে পা রেখে তিনবার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার সংগ্রামী পথ চলা আর কর্মময় জীবনের ওপর দুই দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকা।
(৯ জানুয়ারি শুক্তবার ) বাদ জু'মা জিয়া উদ্যানে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব নজরুল ইসলাম খান।
এ সময় বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উপদেষ্টা ও বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, সংগঠনটির সভাপতি মারুফা রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামী জীবন এতোই বিস্তৃত, এতোই বিশাল, এতোই বর্ণাঢ্য যে, একটা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তার জীবন সংগ্রাম কোনোভাবেই ধারণ করা সম্ভব নয়। বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো বেগম জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উপর তারা যেন আলাদা আলাদা প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
দেশ নেত্রীর জানাজায় এতো মানুষের সমাগম হয়েছে যেটা বিশ্বের প্রধান জানাজাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মানুষটা সারাজীবন লড়াই করেছেন জনগণের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার জন্য।তরুণ প্রজন্ম যারা বেগম জিয়ার নেতৃত্ব সামনে থেকে দেখে নাই, তারা বেগম জিয়ার সম্পর্কে জানতে চায়। এজন্য আমি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো তারা যেন এ বিষয়ে আরো কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বগুড়া মিডিয়া এন্ড কালচারাল সোসাইটির উপদেষ্টা আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী না, বাংলাদেশের চার দশকের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়। স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেসব নারী নেতৃত্ব সাহস, দৃঢ়তা ও গণআস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন, তাদের অগ্রভাগে ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ছিলেন আপসহীনতার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তরুণরা বেগম জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা খুব শীগ্রই বিভিন্ন জায়গায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবন সংগ্রাম নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবো।
বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার সভাপতি মারুফা রহমান বলেন, আমরা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই আয়োজন করেছি। এখানে একেকটি ছবি তার রাজনৈতিক জীবনের একেক সময়কার দলিল। দেশ ও দেশের বাইরে থেকে অনেক মানুষ এখানে আসছেন। বিশেষ করে তরুণরা আসছেন, তারের আগ্রহটা বেশি। তারা বেগম জিয়ার সম্পর্কে আরো ভালোভাবে জানতে পারবে জানতে পারবে।
সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদ বলেন, 'তরুণরা বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে জানতে চায়। আমরা ধাপে ধাপে আরো বেশ কিছু আয়োজন করবো। খুব শীঘ্রই বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি-ঢাকার উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উপর বিভিন্ন ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে দেশনেত্রী বেগম জিয়ার পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্বের প্রায় ১০০টি স্থিরচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এ সময় সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আদনান আজাদ, সহ-সভাপতি ফেরদৌস মামুন, জুলফিকার হোসাইন সোহাগ, আনোয়ার হোসেন জনি ও রাশেদ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম আমিনুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বী সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম জনি, অর্থ সম্পাদক ইসহাক আসিফ, দপ্তর সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবির, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রামিম হাসান, প্রচার সম্পাদক জাহিন তালুকদার, প্রকাশনা সম্পাদক টিনা খানম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, নাট্যবিষয়ক সম্পাদক বিভান বাদল, সমাজসেবা সম্পাদক আজাদ আহমেদ, পরিকল্পনা সম্পাদক রেজওয়ান উল আরেফিন, প্রচার সম্পাদক জাহিন তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক মির্জা সম্রাট রেজা, সদস্য অরণ্য পাশা, আলমগীর সরকার লিটনসহ সংগঠনটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামী জীবন এতোই বিস্তৃত, এতোই বিশাল, এতোই বর্ণাঢ্য যে, একটা আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে তার জীবন সংগ্রাম কোনোভাবেই ধারণ করা সম্ভব নয়। বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো বেগম জিয়ার রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন সংগ্রাম ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উপর তারা যেন আলাদা আলাদা প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
দেশ নেত্রীর জানাজায় এতো মানুষের সমাগম হয়েছে যেটা বিশ্বের প্রধান জানাজাগুলোর মধ্যে অন্যতম। মানুষটা সারাজীবন লড়াই করেছেন জনগণের জন্য, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষার জন্য।তরুণ প্রজন্ম যারা বেগম জিয়ার নেতৃত্ব সামনে থেকে দেখে নাই, তারা বেগম জিয়ার সম্পর্কে জানতে চায়। এজন্য আমি বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটিকে অনুরোধ করবো তারা যেন এ বিষয়ে আরো কার্যক্রম পরিচালনা করে।
জাতীয়
টাঙ্গাইল-৮ বাসাইল-সখীপুর আসনে দু’জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নোটিশ
সখিপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান ও সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি, ২০২৬) টাঙ্গাইলের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।
জানা যায়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ সংসদীয় আসনের বিএনপির প্রার্থী আহমেদ আযম খান নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথি হয়ে ভোট প্রার্থনা ও অনুদান ঘোষণা করছিলেন।
এ অভিযোগ পেয়ে ওই আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের স্মারক নম্বর ০৫.৪১.৯৩৮৫.০০০.০৪.০০৩.২৫.১১৬৪ মূলে গত ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠান।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আশরাফুল আলম লিখিত অভিযোগের সাথে সংযুক্ত ভিডিও ও ছবি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনি অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বক্তব্যে বলেছেন, ‘১২ বার তো ভোট দিয়েছেন এবার ১৩ বার এর নির্বাচনে হিসেব করে ভোট দেন। আমি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছি। আমার দল বিএনপি ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আগামি নির্বাচনে বিএনপি পাস করলে দুই কোটি ফ্যামিলি কার্ড দিবে।’
এছাড়া তিনি নির্বাচনের প্রথম বছরে দুইটি রাস্তা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। অভিযোগের সাথে সংযুক্ত ভিডিও যাচাই করে সত্যতা পাওয়ায় আহমেদ আযম খানের রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫ এর বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
অপরদিকে, একই সংসদীয় আসনে সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগের সাথে সংযুক্ত ছবিসমূহ পর্যালোচনায় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে তাদের দু’জনকে টাঙ্গাইলের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে স্থাপিত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সিভিল জজ আদালতের কাছে কারণ দর্শাতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনে বিএনপি প্রার্থী আহমেদ আযম খান ও সখীপুর সরকারি কলেজের প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠেছে।
রাজনীতি
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না জাতিসংঘ
অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই জাতিসংঘের। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট ছাড়া তারা নিজ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যায় না। ফলে বাংলাদেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ জাতিসংঘের বর্তমান কার্যক্রমের অংশ নয়।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি, ২০২৬) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মুখপাত্র স্তেফান ডুজারিক। তিনি বলেন, “জাতিসংঘ সাধারণত নিজ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠায় না। সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন থাকলেই কেবল এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।”
দুজারিক আরও জানান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এখন জাতিসংঘের কাজের আওতায় নেই। তবে বাংলাদেশে জাতিসংঘের কান্ট্রি অফিস নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘ নিয়মিতভাবেই এ ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়ে থাকে।
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার বিষয়টি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে কীভাবে দেখা হচ্ছে, এমন প্রশ্নে মুখপাত্র বলেন, “আমি সংবাদ বা রাজনৈতিক ঘটনার মূল্যায়ন করি না। খবর বিশ্লেষণ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যেন তাদের রাজনৈতিক মতামত অবাধে প্রকাশ করতে পারে, সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে জাতিসংঘ সমর্থন করে যাবে।
এ সময় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। জবাবে স্তেফান দুজারিক বলেন, “তার মৃত্যুতে জাতিসংঘ তার পরিবারের প্রতি এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। জাতিসংঘের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পর্যবেক্ষক না পাঠালেও গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও অবাধ মতপ্রকাশের পক্ষে তাদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানোর পরিকল্পনা নেই জাতিসংঘের। সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, সাধারণ পরিষদ বা নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট ছাড়া তারা নিজ উদ্যোগে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যায় না। ফলে বাংলাদেশ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ জাতিসংঘের বর্তমান কার্যক্রমের অংশ নয়।
আন্তর্জাতিক
অনলাইনে জুয়া, অনৈতিক কনটেন্টে বিপন্ন কিশোর ও যুবসমাজ
অনলাইনডেস্ক:
বাংলাদেশে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন জুয়া, পর্নোগ্রাফি এবং অনৈতিক বিজ্ঞাপনের বিস্তার এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা, গেমিং অ্যাপের ছদ্মবেশ এবং আন্তর্জাতিক জুয়া নেটওয়ার্কের প্রভাবে দেশের ছাত্র-যুবসমাজ এক অদৃশ্য বিপর্যয়ের মুখে। একদিকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় নৈতিক কাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার অনলাইন জুয়া ও অনৈতিক কনটেন্টের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, তবে বাস্তবতায় তা কার্যকর করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছে।
একসময় জুয়া ছিল তাসের আসরে সীমাবদ্ধ। এখন তা স্মার্টফোনে, গেমিং অ্যাপে, স্পোর্টস বেটিংয়ে, এমনকি সাধারণ গেমের ছদ্মবেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। স্লট মেশিন, রুলেট, ব্ল্যাকজ্যাক, পোকার-সবই এখন অনলাইনে। ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিসসহ প্রতিটি খেলার প্রতিটি মুহূর্তে বাজি ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আইপিএল, বিপিএল, ইউরোপিয়ান লীগ- সবই জুয়ার প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এইসব অ্যাপের মাধ্যমে শিশু-কিশোররা বিনা পুঁজিতে ট্রায়াল খেলে, পরে উত্তেজনায় আসল টাকা বিনিয়োগ করে।
অনেক অ্যাপে অ্যাকাউন্ট করলেই বোনাস দেওয়া হয়, যা দিয়ে সহজেই জুয়ায় প্রবেশ করা যায়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন হয় দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে, যারা হাজারে ৪০-৫০ টাকা কমিশন নেয়।সরকারি পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সমপ্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ, নৈতিক ও প্রজন্মবান্ধব রাখতে সরকার দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় জুয়া, বেটিং ও পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন ও প্রোমোশনাল কনটেন্ট প্রচার করা হচ্ছে, যা সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর পরিপন্থী।সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ধারা ২০(১) অনুযায়ী, সাইবার স্পেসে জুয়া বা বেটিং সম্পর্কিত কনটেন্ট তৈরি, পরিচালনা, প্রচার, বিজ্ঞাপন প্রকাশ বা উৎসাহ প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। একইভাবে, ধারা ২৫(১) অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফি বা অনৈতিক কনটেন্ট প্রচার, প্রচারে সহায়তা বা বিজ্ঞাপন প্রকাশও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
এসব কার্যকলাপ তরুণ সমাজের নৈতিক বিকাশ, সামাজিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক বন্ধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রীয় নৈতিক কাঠামোর জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।এই প্রেক্ষাপটে সরকার দেশের সকল সংবাদপত্র, অনলাইন পোর্টাল, টেলিভিশন চ্যানেল, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন সংস্থা এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন তাদের প্ল্যাটফর্মে কোনোভাবেই জুয়া, গ্যাম্বলিং বা পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন প্রচার না করে। একইসাথে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সেলিব্রিটি, ইনফ্লুয়েন্সার এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, তারা যেন এসব অনৈতিক পণ্য, সেবা বা ওয়েবসাইটের প্রচারে অংশগ্রহণ না করেন।
সরকার মোবাইল কোম্পানি, ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান, গুগল অ্যাডসেন্স, মেটা অ্যাডসহ আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন প্ল্যাটফর্মগুলোকেও অনুরোধ জানিয়েছে, তারা যেন বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও নৈতিকতার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিজ্ঞাপন প্রচার করে।
এসব প্রতিষ্ঠানকে ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও নিউজ পোর্টালে ডিফল্ট বিজ্ঞাপন না চালিয়ে কাস্টমাইজড বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনায় যেতে বলা হয়েছে, যাতে জুয়া, পর্ন বা গ্যাম্বলিং সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞাপন বা পপ-আপ না আসে।সরকার জানিয়েছে, জুয়ার বিজ্ঞাপনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে এবং আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপের বিরুদ্ধে ব্লকিং, জরিমানা কিংবা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়নে সিআইডি, বিটিআরসি, এনসিএসএ, এনটিএমসি, এনএসআই এবং বিএফআইইউ যৌথভাবে কাজ করছে।তবে বাস্তবতা বলছে, অনলাইন জুয়া বন্ধে সরকারের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। কারণগুলো হলো-প্রযুক্তিগত চাতুরতা, আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রণের অভাব, অত্যধিক মুনাফা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, অসৎ কর্মকর্তা, মোবাইল অপারেটরের অসহযোগিতা, প্রলোভনমূলক অফার এবং সচেতনতার অভাব। একটি ওয়েবসাইট বন্ধ হলে সঙ্গে সঙ্গে নতুন লিংক চালু হয়। বিদেশি সাইটে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগ করা যায় না।
অধিক মুনাফার কারণে এই ব্যবসা বন্ধে কেউ আন্তরিক নয়। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত থাকায় আইনি পদক্ষেপ বাধাগ্রস্ত হয়।
দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাসোহারা নিয়ে নিষ্ক্রিয়। মোবাইল অপারেটররা ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ায় জুয়া বন্ধে আগ্রহী নয়। মেসেজে ‘ফ্রি টাকা’ দিয়ে ব্যবহারকারীকে ফাঁদে ফেলা হয়। ধর্মীয় অনুশাসন ও সামাজিক শিক্ষা না থাকায় মানুষ জুয়ায় জড়িয়ে পড়ে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে প্রয়োজন বহুমুখী উদ্যোগ।
ধর্মীয় অনুশাসন ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। জাতীয় কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ চালাতে হবে। কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাইট শনাক্ত ও বন্ধ করতে হবে। বৈশ্বিক সমন্বয় ছাড়া অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মোবাইল অপারেটরদের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে। কিশোর-যুবকদের মাঠে ফিরিয়ে আনতে হবে।সরকার মনে করে, একটি নৈতিক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে সরকারি সংস্থা, মিডিয়া, প্রযুক্তি কোম্পানি এবং নাগরিক সমাজের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। কেউ যদি অনলাইনে জুয়া, বেটিং বা পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞাপন বা কনটেন্ট দেখতে পান, তাহলে ৎবঢ়ড়ৎঃ@হংপধ.মড়া.নফ ঠিকানায় রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন জুয়া, পর্নোগ্রাফি এবং অনৈতিক বিজ্ঞাপনের বিস্তার এক ভয়াবহ সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে।
জাতীয়
শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতে কক্সবাজার যাচ্ছেন তারেক রহমান
অনলাইন ডেস্ক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামী ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই সফরের মূল কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
কক্সবাজার জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি, ২০২৬) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন।
ইউসুফ বদরী বলেন, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ লেখা গাড়িতে করে তারেক রহমান কক্সবাজারে কোথায় কোথায় যাবেন এবং কী কী কর্মসূচি থাকবে, সেসব স্থান পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করা হচ্ছে। এসব তথ্য দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের জানানো হবে। এরপর দলীয়ভাবে সফরের চূড়ান্ত সূচি ঘোষণা করা হবে।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরে তারেক রহমান কক্সবাজারের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন, এটি জেলার বিএনপি পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, নেতাকর্মীরা তার আগমনের অপেক্ষায় আছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান আগামী ১১ জানুয়ারি রোববার দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়া সফরে যাবেন। পরদিন ১২ জানুয়ারি সোমবার তিনি রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর ১৮ জানুয়ারি রোববার কক্সবাজারের পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারতের কর্মসূচি রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের দ্বিমুখী সংঘর্ষে শহীদ হন ওয়াসিম আকরাম। তিনি চট্টগ্রাম কলেজে স্নাতক তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ওয়াসিম আকরাম কক্সবাজারের পেকুয়ার বাসিন্দা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আগামী ১৮ জানুয়ারি কক্সবাজার সফরে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে এই সফরের মূল কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
জাতীয়
চাঁদাবাজির মামলায় সকালে রিমান্ড, বিকেলে জামিন, সন্ধ্যায় কারামুক্তি সুরভীর
অনলাইন ডেস্ক:
চাঁদাবাজির মামলায় সকালে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল করে জামিন এবং সন্ধ্যার মধ্যেই কারামুক্তি। আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর ক্ষেত্রে একই দিনে এমন নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি গাজীপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
এর আগে ওই দিন দুপুরে গাজীপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২–এর বিচারক সৈয়দ ফজলুল মাহাদী শুনানি শেষে একটি চাঁদাবাজির মামলায় সুরভীর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালিয়াকৈর থানার এসআই ওমর ফারুক পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আদালতের এ আদেশ ঘিরে সকাল থেকেই জজ কোর্ট প্রাঙ্গণে সুরভীর সমর্থকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
রিমান্ড আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোড় নেয় পরিস্থিতি। অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১–এর বিচারক অমিত কুমার দে রিমান্ড আদেশ বাতিল করে সুরভীর চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সুরভীর আইনজীবী ও গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কামাল বলেন, “দুপুরের রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে আমরা দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করি। শুনানি শেষে আদালত বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রিমান্ড বাতিল করে আমার জিম্মায় চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন।”
জামিনের কাগজপত্র দ্রুত কারাগারে পৌঁছালে সন্ধ্যার মধ্যেই মুক্তি পান সুরভী। কারামুক্তির খবরে গাজীপুর আদালতপাড়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এই মামলার সূত্রপাত গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে। ওই সময় গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিজ বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ ঘুম থেকে তুলে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশ জানায়, সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এজাহারে সুরভীর বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়। তবে আদালতপাড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু থেকেই তাঁর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জুলাইযোদ্ধারা। তাঁদের দাবি, সুরভী অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স গোপন করে তাঁকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রোববার আদালতে তোলার সময়ও উত্তেজনা ছড়ায়। রিমান্ড আদেশের পর গারদখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সুরভী চিৎকার করে বলেন, “কোনো তদন্ত ছাড়াই আমারে রিমান্ড দিছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।” এ সময় আদালতপাড়ায় জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীরা রিমান্ড বাতিল ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
সুরভীর বয়স যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুক বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বয়স সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।” তবে গ্রেপ্তারের ১১ দিন পরও প্রকৃত বয়স যাচাই না করার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, এজাহারে বয়স ২১ বছর উল্লেখ থাকায় আলাদা করে খোঁজ নেওয়া হয়নি। “এখন বিতর্ক ওঠায় আসামির পরিবারের কাছে জন্মনিবন্ধন চাওয়া হয়েছে এবং অনলাইনে যাচাই করা হবে,” বলেন তিনি।
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির এক আইনজীবী জানান, পুলিশ প্রতিবেদনে যে বয়স উল্লেখ থাকে, আদালত সাধারণত সেটির ভিত্তিতেই আদেশ দেন। বয়স কম হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এলে রিমান্ড বাতিল ও জামিন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদীর একাধিক অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বাদী সুরভীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন বলে শোনা যায়। এসব অডিও শেয়ার করে অনেক জুলাইযোদ্ধা দাবি করছেন, সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, “মামলাটি আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগের। বিষয়টি জেনেছি। কোনো ধরনের অবিচার যেন না হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখব। আশা করছি একটি ন্যায্য সমাধান হবে।”
চাঁদাবাজির মামলায় সকালে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল করে জামিন এবং সন্ধ্যার মধ্যেই কারামুক্তি। আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীর ক্ষেত্রে একই দিনে এমন নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে তিনি গাজীপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান।
রিমান্ড আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মোড় নেয় পরিস্থিতি। অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ-১–এর বিচারক অমিত কুমার দে রিমান্ড আদেশ বাতিল করে সুরভীর চার সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে সুরভীর আইনজীবী ও গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কামাল বলেন, “দুপুরের রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে আমরা দায়রা জজ আদালতে রিভিশন করি। শুনানি শেষে আদালত বয়স ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রিমান্ড বাতিল করে আমার জিম্মায় চার সপ্তাহের জামিন দিয়েছেন।”
জামিনের কাগজপত্র দ্রুত কারাগারে পৌঁছালে সন্ধ্যার মধ্যেই মুক্তি পান সুরভী। কারামুক্তির খবরে গাজীপুর আদালতপাড়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
এই মামলার সূত্রপাত গত ২৪ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে। ওই সময় গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিজ বাসা থেকে সুরভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। পুলিশ ঘুম থেকে তুলে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পুলিশ জানায়, সাংবাদিক নাইমুর রহমান দুর্জয়ের করা একটি চাঁদাবাজির মামলায় তিনি পরোয়ানাভুক্ত আসামি।
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের করেন নাঈমুর রহমান দুর্জয়। এজাহারে সুরভীর বয়স ২১ বছর উল্লেখ করা হয়। তবে আদালতপাড়ায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু থেকেই তাঁর বয়স নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জুলাইযোদ্ধারা। তাঁদের দাবি, সুরভী অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং বয়স গোপন করে তাঁকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
রোববার আদালতে তোলার সময়ও উত্তেজনা ছড়ায়। রিমান্ড আদেশের পর গারদখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় সুরভী চিৎকার করে বলেন, “কোনো তদন্ত ছাড়াই আমারে রিমান্ড দিছে। ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে কোনো তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়নি।” এ সময় আদালতপাড়ায় জড়ো হওয়া আন্দোলনকারীরা রিমান্ড বাতিল ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে স্লোগান দেন।
সুরভীর বয়স যাচাই নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুক বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বয়স সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হবে।” তবে গ্রেপ্তারের ১১ দিন পরও প্রকৃত বয়স যাচাই না করার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, এজাহারে বয়স ২১ বছর উল্লেখ থাকায় আলাদা করে খোঁজ নেওয়া হয়নি। “এখন বিতর্ক ওঠায় আসামির পরিবারের কাছে জন্মনিবন্ধন চাওয়া হয়েছে এবং অনলাইনে যাচাই করা হবে,” বলেন তিনি।
গাজীপুর জেলা আইনজীবী সমিতির এক আইনজীবী জানান, পুলিশ প্রতিবেদনে যে বয়স উল্লেখ থাকে, আদালত সাধারণত সেটির ভিত্তিতেই আদেশ দেন। বয়স কম হওয়ার বিষয়টি আদালতের নজরে এলে রিমান্ড বাতিল ও জামিন পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মামলার বাদীর একাধিক অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে বাদী সুরভীকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছেন বলে শোনা যায়। এসব অডিও শেয়ার করে অনেক জুলাইযোদ্ধা দাবি করছেন, সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, “মামলাটি আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগের। বিষয়টি জেনেছি। কোনো ধরনের অবিচার যেন না হয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখব। আশা করছি একটি ন্যায্য সমাধান হবে।”
আলোচিত খবর
প্রতীক বরাদ্দের আগে কোন নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না: ইসি
অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জনসংযোগ পরিচালক ও তথ্য কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, 'আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা মেনে প্রচারণার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পূর্বে নির্বাচনী প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে।'
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
জাতীয়
হাদি হত্যা মামলার বিচার এই সরকারের মেয়াদেই হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক:
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
আজ ৫ জানুয়ারি, ২০২৬ সোমবার রাজধানীর সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এখন পর্যন্ত এ মামলায় ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। “এই সরকারের সময়েই মামলাটির বিচার শেষ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে,” বলে জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, ঘোষিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে সরকার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে যারা পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্বাচন বানচালের যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।” ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে অবাধভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সারা দেশে অপরাধ দমন ও অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা ও ওয়ারেন্টসহ মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়, “রাস্তাঘাট বন্ধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যাতে বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি জানান, গাইবান্ধায় ঘুষের ৩৬ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছে। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে গত ডিসেম্বর মাসে শত শত মামলা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শৈত্যপ্রবাহের কারণে কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে পরিবহন চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার বিচার বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মামলাটির তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং শিগগিরই আদালতে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও স্পষ্ট করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “নির্বাচন বানচালের যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।” ভোটকেন্দ্রসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যেকোনো স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনে অবাধভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, সারা দেশে অপরাধ দমন ও অস্ত্র উদ্ধারে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ এর আওতায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলা ও ওয়ারেন্টসহ মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়, “রাস্তাঘাট বন্ধ করে রাজনৈতিক কর্মসূচি দিলে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুষ্কৃতকারীরা যাতে বিভিন্ন দলে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে তিনি জানান, গাইবান্ধায় ঘুষের ৩৬ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে আটক এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ছাবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করেছে। এছাড়া মাদকবিরোধী অভিযানে গত ডিসেম্বর মাসে শত শত মামলা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শৈত্যপ্রবাহের কারণে কুয়াশায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে উল্লেখ করে পরিবহন চালকদের সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
জাতীয়
টাঙ্গাইল-৮ সখীপুর-বাসাইল সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থী ৪ জন, মনোনয়ন বাতিল ৬
জুয়েল রানা, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি, ২০২৬) টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
বৈধ ঘোষিত প্রার্থীরা হলেন— বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. নাজমুল হাসান, জামায়াতে ইসলামীর মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীর।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল ফজল মাহমুদুল হক, এস এম হাবিবুর রহমান, হাবিবুর রহমান কামাল, আমজনতার দলের মো. আলমগীর হোসেন, খেলাফত মজলিসের মো. শহিদুল ইসলাম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির আওয়াল মাহমুদ।
রিটার্নিং অফিসার জানান, মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।
এদিকে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইল-৮ আসনে নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও জমে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যাচাই-বাছাই শেষে এলাকায় নির্বাচনী আলোচনা ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়তে শুরু করেছে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ত্রুটির কারণে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
রাজনীতি
ইরানে সহিংসতার আড়ালে শাসনব্যবস্থা উৎখাতের নতুন চক্রান্ত
তেহরান থেকে আশরাফুর রহমান:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং আমদানিনির্ভর বাজারে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা থেকেই সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি শহরে অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে খুব দ্রুতই সেই বিক্ষোভের ভেতরে ভিন্ন স্লোগান, ভিন্ন এজেন্ডা এবং ভিন্ন শক্তির উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবাদের আড়ালে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের সহযোগীরা অনুপ্রবেশ করে আন্দোলনকে সহিংসতা ও শাসনব্যবস্থা উৎখাতের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। মোসাদের প্রকাশ্য বার্তা, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হুমকি এবং ইসরায়েলের অবস্থান এই সন্দেহকে আরও জোরালো করেছে। ফলে ইরানের চলমান পরিস্থিতি এখন আর কেবল একটি অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট নয়; এটি ক্রমেই একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সংঘাতের অংশ হয়ে উঠছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাবে ইরানের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে। রেকর্ড পরিমাণ মুদ্রাস্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং আমদানিনির্ভর বাজারে ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। এই বাস্তবতা থেকেই সাম্প্রতিক সময়ে দেশের কয়েকটি শহরে অর্থনৈতিক দাবিকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে খুব দ্রুতই সেই বিক্ষোভের ভেতরে ভিন্ন স্লোগান, ভিন্ন এজেন্ডা এবং ভিন্ন শক্তির উপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক
সারাদেশে বিপুল সংখ্যক ক্লোন ও নকল ফোন শনাক্ত করল এনইআইআর সিস্টেম
অনলাইন ডেস্ক:
সদ্য চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমে দেশজুড়ে ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোন ব্যবহারের এক উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়েছে। এতে দেখা গেছে, বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোতে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই (IMEI) নম্বর সক্রিয় রয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শনিবার জানানো হয়, এনইআইআর সিস্টেমে দেশজুড়ে অসংখ্য অস্বাভাবিক আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ‘১১১১১১১১১১১১১’, ‘০০০০০০০০০০০০০’ এবং ‘৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯’ এর মতো ভুয়া আইএমইআই নম্বর ব্যবহার করে লাখ লাখ হ্যান্ডসেট সচল থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
ক্লোন ও নকল হ্যান্ডসেট বন্ধে গত ১ জানুয়ারি থেকে বহুল প্রতীক্ষিত এনইআইআর (NEIR) সিস্টেম চালু করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এই ব্যবস্থা চালুর পরপরই জালিয়াতির এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যবহারকারীদের অসুবিধার কথা চিন্তা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনই এই ফোনগুলো বন্ধ করছে না। জনজীবন যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্য এসব আইএমইআই নম্বরকে বর্তমানে ‘গ্রে’ বা ধূসর তালিকায় রাখা হচ্ছে।
আইএমইআই হলো প্রতিটি মোবাইল ফোন এবং সিম ব্যবহার করা যায় এমন ডিভাইসের একটি বিশেষ পরিচয় নম্বর। সাধারণত ১৫ ডিজিটের এই নম্বর হ্যান্ডসেটের আঙুলের ছাপের মতো কাজ করে। এর মাধ্যমে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও কর্তৃপক্ষ সিম কার্ড ছাড়াই হ্যান্ডসেটটিকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে পারে।
তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ নিম্নমানের ও নকল হ্যান্ডসেট ব্যবহার করছেন। এসব ফোন আমদানির সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তা পরীক্ষা, ফোনে ক্ষতিকর বিকিরণ বা রেডিয়েশন এবং স্পেসিফিক অ্যাবসর্পশন রেট (এসএআর) টেস্ট করা হয়নি। দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কজুড়েই এমন অনিবন্ধিত ও নিম্নমানের ফোনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কেবল ‘৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯’ আইএমইআই নম্বরের বিপরীতে বিভিন্ন পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি সংযোগ সচল করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভুয়া আইএমইআই নম্বরগুলো শুধু স্মার্টফোনে নয় বরং বিভিন্ন ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ডিভাইসেও থাকতে পারে।
বর্তমানে মোবাইল অপারেটররা মোবাইল ফোন, সিম-চালিত অন্যান্য ডিভাইস এবং আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদাভাবে চিনতে পারে না। এর ফলে সিসিটিভি ক্যামেরার মতো ডিভাইসগুলোও একই আইএমইআই নম্বরের অধীনে সচল থাকতে পারে।
এই সমস্যা সমাধানে সরকার এখন থেকে বৈধভাবে আমদানিকৃত আইওটি ডিভাইসগুলোকে আলাদাভাবে ট্যাগ বা চিহ্নিত করা শুরু করেছে।
কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে এমন কিছু ভুয়া ও নকল আইএমইআই নম্বরের তালিকা করেছে, যেগুলোর একেকটি নম্বর ব্যবহার করেই ১ লাখের বেশি মোবাইল ফোন চলছে। এই তথ্য থেকেই বোঝা যায়, দেশে মোবাইল জালিয়াতির শিকড় কতটা গভীরে এবং এটি কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডুপ্লিকেট আইএমইআই নম্বরগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু ভুয়া নম্বর দিয়েই দেশের বিশাল সংখ্যক মোবাইল ফোন চলছে। যেমন— ‘৪৪০০১৫২০২০০০’ আইএমইআই নম্বরটি ব্যবহার করে সচল আছে ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮টি ডিভাইস। এছাড়া ‘৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪’ নম্বরের বিপরীতে ১৭ লাখ ৫৮ হাজার ৮৪৮টি এবং ‘৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬’ নম্বরের বিপরীতে ১৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৭১টি ফোন সক্রিয় রয়েছে। এমনকি কেবল একটি শূন্য ‘০’ আইএমইআই নম্বরে চলছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস।
তালিকায় থাকা অন্যান্য উল্লেখযোগ্য নম্বরগুলোর মধ্যে ‘৩৫৪৬৪৮০২০০০০২৫’ আইএমইআই নম্বরে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮টি, ‘৩৫৮৬৮৮০০০০০০০১৫’ নম্বরে ৫ লাখ ৩২ হাজার ৮৬৭টি এবং ‘৮৬৭৪০০০২০৩১৬৬১’ নম্বরে ৪ লাখ ৬৩ হাজার ১৭টি ডিভাইস চলছে।
এছাড়া ‘৮৬৭৪০০০২০৩১৬৬২’ নম্বরের বিপরীতে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৮১৪টি, ‘১৩৫৭৯০২৪৬৮১১২২’ নম্বরে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯০৭টি এবং ‘৩৫২১০৮০১০০০২৩০’ নম্বরের বিপরীতে ২ লাখ ১৩ হাজার ৭৮৯টি ডিভাইস সচল পাওয়া গেছে।
তালিকার ১৫১৫১৫১৫১৫১৫১৫ নম্বরটি ব্যবহৃত হচ্ছে ২ লাখ ১০ হাজার ৩৭টি ডিভাইসে। এর পরেই আছে ৩৫৯৭৫৯০০২৫১৪৯৩ নম্বরটি, যা সক্রিয় আছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৮২টি ডিভাইসে। এছাড়া ৩৫৮৬৮৮০০০০৯৩৮৫ নম্বরটি ১ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৩টি এবং ৩৫৫০৫০০২০৯৮৪৫১ নম্বরটি ১ লাখ ৬৮ হাজার ৫৬০টি ডিভাইসে সচল রয়েছে।
তালিকায় আরও দেখা যায়, ৩৫৯৪৫৪৭৮৪৯৮১৮৮ নম্বরটি ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৫৬টি ডিভাইসে এবং ৩৫৪৬৪৮০২০০০০০০ নম্বরটি ১ লাখ ৫০ হাজার ৫৪৬টি ডিভাইসে ব্যবহৃত হচ্ছে। ৩৫৩৯১৯০২৫৬৮০১৩ নম্বরটি সক্রিয় আছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫টি ডিভাইসে। ৩৫৯৭৩৮০০৯৫৫৩৪০ নম্বরটি ১ লাখ ২৭ হাজার ১৮৪টি এবং ৩৫৩২৫৯০৫৪৫৭৪৬৮ নম্বরটি ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৯৬টি ডিভাইসে সচল পাওয়া গেছে।
এছাড়া ১ লাখ ২৪ হাজার ৪৪০টি ডিভাইসে ৩৫৯৬৮৮০০০০০০১৫ নম্বর, ১ লাখ ১৪ হাজার ৭৮১টি ডিভাইসে ৩৫৮২৭৩১১৭৩৮৬৩৪ নম্বর এবং ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭১টি ডিভাইসে ৩৫৪৪৮৫০১৫৬৭২০৭ নম্বরটি সক্রিয় রয়েছে। তালিকার শেষ দিকে রয়েছে ৮৬৩০১৪০২০০০০০৫ এবং ৩৫৪১১২০৮০৬৪৪২৯ নম্বর দু’টি, যা যথাক্রমে ১ লাখ ৬ হাজার ৩১৪টি ও ১ লাখ ৩ হাজার ২৮১টি ডিভাইসে ব্যবহৃত হচ্ছে।
কর্মকর্তারা জানান, মোবাইল নেটওয়ার্কে বিপুল পরিমাণ ক্লোন বা নকল হ্যান্ডসেটের উপস্থিতির কারণেই এমন চিত্র দেখা গেছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোতে এনইআইআর সিস্টেমের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
কর্মকর্তারা বলেন, দেশের বাজারে ক্লোন ও নকল ফোনের অস্তিত্বের কথা আগে থেকেই জানা ছিল। তবে এই সমস্যার ব্যাপ্তি যে কতটা গভীর, তা এনইআইআর পদ্ধতি চালুর পরেই পুরোপুরি স্পষ্ট হয়েছে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে ডিজিটাল জালিয়াতির ৭৩ শতাংশই ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসের মাধ্যমে। এছাড়া, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) জালিয়াতির ৮৫ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে অবৈধ বা রিপ্রোগ্রাম করা হ্যান্ডসেটের মাধ্যমে।
একই বছরে সরকারি হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মোবাইল চুরির অভিযোগ জমা পড়লেও প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি। চুরি হওয়া এসব ফোনের বেশিরভাগই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কর্মকর্তারা বলছেন, ‘আনঅফিশিয়াল’ বা নতুন হ্যান্ডসেটের নামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে নকল ফোন বিক্রি করা এক ধরনের নজিরবিহীন জালিয়াতি। জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা জোর দাবি জানান।
সদ্য চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) সিস্টেমে দেশজুড়ে ক্লোন ও নকল মোবাইল ফোন ব্যবহারের এক উদ্বেগজনক চিত্র ধরা পড়েছে। এতে দেখা গেছে, বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কগুলোতে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট আইএমইআই (IMEI) নম্বর সক্রিয় রয়েছে।
জাতীয়
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বাহিনীর ভয়াবহ হামলা, দেশটিতে জরুরী অবস্থা ঘোষণা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'আক্রমণ' এর অভিযোগ এনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন, কারণ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক স্থানে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও নিম্ন উড়ন্ত বিমান দেখা গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার রোধের নামে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কার্যকর করেছে এবং জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে, ফলে দেশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, এমন অভিযোগ করে একে ‘সরাসরি সামরিক আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটির সরকার। সরকারি এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ জানানো হয়। শনিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বিবৃতিটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সরকারের দাবি, রাজধানী কারাকাসসহ মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একাধিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানায় কারাকাস।
সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাদুরো প্রশাসন।
পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার ভেতরে একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক স্থাপনাও ছিল।
তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সব প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখনো পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে 'আক্রমণ' এর অভিযোগ এনে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন, কারণ ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক স্থানে সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও নিম্ন উড়ন্ত বিমান দেখা গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্র মাদক পাচার রোধের নামে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। ভেনেজুয়েলা সরকার জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা কার্যকর করেছে এবং জনগণকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়েছে, ফলে দেশে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, এমন অভিযোগ করে একে ‘সরাসরি সামরিক আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দিয়েছে দেশটির সরকার। সরকারি এক বিবৃতিতে এই অভিযোগ জানানো হয়। শনিবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে বিবৃতিটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সরকারের দাবি, রাজধানী কারাকাসসহ মিরান্ডা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের একাধিক স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত সামরিক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানায় কারাকাস।
সরকারি বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেনেজুয়েলার তেল ও খনিজ সম্পদের দখল নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এই প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মাদুরো প্রশাসন।
পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার ভেতরে একাধিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। সিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সামরিক স্থাপনাও ছিল।
তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন সব প্রশ্ন হোয়াইট হাউসের কাছে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিএস।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এখনো পর্যন্ত হামলায় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের নির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
আন্তর্জাতিক
আজ থেকে সারাদেশে ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি
অনলাইন ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবীতে মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
আজ (৩ জানুয়ারি, ২০২৬) থেকে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এই সময়ে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে সকলের সহযোগিতা এবং সরকার, রাজনৈতিক দল ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছে যাবেন সংগঠনটির সদস্যরা।
একই সঙ্গে আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদির খুনি ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করার দাবিও জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। তা না হলে ৭ জানুয়ারির পর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। ২২ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার না করলে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি, ২০২৬) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন।
এসময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের সঙ্গে যদি কেউ বৈঠক করতে আসে, আপনারা অবশ্যই বৈঠক করবেন। কিন্তু সেই বৈঠক হতে হবে ওপেন। কোনো সিক্রেট বৈঠক নাই। দিল্লির সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন বৈঠক চলবে না।’
ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, ‘ওসমান হাদি আমাদের এই লড়াইয়ের পথটা দেখিয়ে গেছেন। এখন আমাদের সেই অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের কথা একটাই, বাংলাদেশের সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমরা এই লড়াইটা করব, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের তিন পাশ থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, যার কারণে আমরা ভারতীয় আধিপত্যের বিপক্ষে কথা বলি। এখন যদি আমেরিকা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ খাটাইতে চায়, আমরা কি আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলব না? আমরা কি কারো কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিয়ে দিব? না, দেব না। আমাদের এই লড়াইটা কেবল শুরু।’
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবীতে মার্চ ফর ইনসাফ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
জাতীয়
ঢাকা–৯ আসনে ডা. তাসনিম জারার মনোনয়ন বাতিল, আপিলের সুযোগ রয়েছে -ইসি
অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা–৯ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান, ফলে এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিষয়টি।
শনিবার (০৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা আসে। এর আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ঢাকা–৯ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন তাসনিম জারা।
তাসনিম জারা এর আগে ন্যাশনাল সিটিজেনস পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সঙ্গে এনসিপির নির্বাচনী জোট নিয়ে দলীয় অবস্থানের সঙ্গে মতভেদের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন। পদত্যাগের পরই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, তাসনিম জারার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা। তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা। হলফনামা অনুযায়ী তার নামে কোনো মামলা, ঋণ, দায় বা সরকারি পাওনা নেই।
সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, তার কোনো বাড়ি, ফ্ল্যাট, কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। অলংকার আছে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার। ব্যাংকে তার নামে জমা রয়েছে ১০ হাজার ১৯ টাকা। হাতে নগদ রয়েছে ১৬ লাখ টাকা এবং ২ হাজার ২৭০ ব্রিটিশ পাউন্ড। তার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর হাতে নগদ রয়েছে ১৫ লাখ টাকা ও ৬ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড।
হলফনামায় আরও বলা হয়, চাকরি থেকে বছরে তার আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৩ টাকা। ব্যাংকে আমানত রয়েছে ২৬৪ টাকা। দেশের বাইরে তার আয় ৩ হাজার ২০০ পাউন্ড। দেশের বাইরে স্বামীর আয় দেখানো হয়েছে ৩৯ হাজার ৮০০ পাউন্ড। পেশায় তাসনিম জারা একজন চিকিৎসক এবং তার স্বামী উদ্যোক্তা ও গবেষক।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
ঢাকা–৯ সংসদীয় আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামা চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানান, ফলে এই আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বিষয়টি।
রাজনীতি
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সাংবাদিকতায় নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টের রুল জারী
অনলাইন ডেস্ক:
এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পদে কেনো থাকতে পারবেন না এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ ১৭ (ক ও খ) এর বিধান কেনো বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারী করেছেন হাইকোর্ট।
আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পক্ষ হতে দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পর বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন ও বিচারপতি দিহিদার মাসুদ কবির সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ ১ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ রুল জারি করেন।
গত ৭ ডিসেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করা হয়।আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শহিদউল্লাহ ও মিজান-উর রশিদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আরিফুল আলম। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন এমপিও নীতিমালায় বলা হয়, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পদে থাকতে পারবেন না এবং কর্মের বিনিময়ে কোন বেতন/ভাতা/সম্মানী নিতে পারবেন না। এরমধ্যে সাংবাদিকতা ও আইন পেশাও আছে। এটি করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বাতিল করা যাবে। এই বিধান সন্নিবেশিত করায় বিপাকে পড়েন দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-সাংবাদিক।
এদিকে বেসরকারি শিক্ষক সাংবাদিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের নেতারা দাবী করেছেন, দেশের এমপিওভূক্ত বহু বেসরকারি শিক্ষক রাজনীতি করছেন, জনপ্রতিনিধি হয়ে বেতন-ভাতা ও সম্মানী নিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকগণ সরকারী ডিউটি পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও চেম্বারে নিয়োজিত থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। সরকারি কর্মকর্তারা সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে বিভিন্ন সময় সম্মানি গ্রহণ করছেন। এতে কোন সমস্যা নেই। তাহলে বেসরকারি শিক্ষকরা তাদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন পরবর্তী অবসর সময়ে সাংবাদিকতা করলে সমস্যা কোথায়?
তাছাড়া সাংবাদিকতা একটা মেধা ও বুদ্ধি ভিত্তিক সৃজনশীল কাজ। মহৎ এই কাজের মাধ্যমে দেশ ও সমাজের অনেক উপকার করার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষকদের সাংবাদিকতায় নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে সংবিধানের আর্টিকেল ২৬ ও ২৭ ধারা লংঘন করা হয়েছে। তাছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ করে মফস্বল সাংবাদিকদের কোন নির্দিষ্ট অফিস টাইম নেই। তারা তাদের সুবিধামতো সময়ে এ কাজটি করে থাকেন। বিনিময়ে অধিকাংশ মিডিয়া হতে কোন নির্দিষ্ট বেতন ভাতাও দেয়া হয়না। কিছু কিছু গণমাধ্যম যৎসামান্য সম্মানি দেয় মাত্র। তারপরও তারা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা হতে বহু বছর ধরে লেখালেখির এ কাজটি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
সাংবাদিকতা শিক্ষকতার মতোই একটি মহতি কাজ। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে শিক্ষকদের সাংবাদিকতা তথা কন্ঠরোধ করা হচ্ছে। এতে দেশে মফস্বল সাংবাদিকতায় ধ্বস নামবে। অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত, সুযোগ-সন্ধানী, টাউট-বাটপার ও চাঁদাবাজরুপী কথিত সাংবাদিকদের দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাবে। যা দেশ ও সমাজের জন্য অনেক ক্ষতির কারণ হবে।
বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক- সাংবাদিক অধিকার সংরক্ষণ ফোরামের আহ্বায়ক মাসুদ হাসান বাদল বলেন, আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার বহাল রাখতে আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছি। আমরা শিক্ষকতায় কোন ধরনের গাফিলতি বা পেশার ক্ষতি না করেই সাংবাদিকতার মতো সমাজ সেবামূলক মহতি কাজের সাথে বহুবছর ধরে যুক্ত ছিলাম। এ থেকে আমরা কোন বেতন-ভাতও পাইনা। অল্প কিছু গণমাধ্যম যৎসামান্য সম্মানী ভাতা দিয়ে থাকে মাত্র।
আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি পৃথিবীর অনেক দেশে শিক্ষকরা শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করে থাকেন। তাদের মেধা, যোগ্যতা ও সৃজনশীলতাকে তাদের সরকার দেশের কাজে ব্যবহারের সুযোগ করে দেন। তাছাড়া আমাদের দেশে সাংবাদিকতার কোন নীতিমালা নেই। যে কারণে দেশে বিশেষ করে মফস্বলে ভয়াবহ আকারে অপ-সাংবাদিকতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত, সুযোগ সন্ধানী, অযোগ্যরা এ পেশায় ঢ়ুকে নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। ভালোমানের শিক্ষিত লোকজন মফস্বল সাংবাদিকতায় তেমন একটা আসতেই চান না। তারপরও মফস্বলে এখনো শিক্ষিত ও ভালোমানের সাংবাদিক রয়েছেন। তবে তারা সংখ্যায় খুবই কম।
এমতাবস্থায় শিক্ষক তথা শিক্ষিত লোকদের হাত থেকে কলম কেড়ে নেয়া দেশ ও জাতির জন্য একটা ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত। আমরা এ সিদ্ধান্ত বাতিলে মহামান্য আদালত ও সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি। জানতে চাইলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মহসিন কবির বলেন, হাইকোর্ট নীতিমালার ওই বিধান নিয়ে শুধু রুল দিয়েছেন। রিট আবেদনকারীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শহিদউল্লাহ বলেন, নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) বিধি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সঙ্গে একাধিক চাকরি বা লাভজনক পদে কেনো থাকতে পারবেন না এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ ১৭ (ক ও খ) এর বিধান কেনো বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারী করেছেন হাইকোর্ট।
জাতীয়
হাদি ইস্যুতে এবার ইনকিলাব মঞ্চ নামছে সরকার পতনের দাবিতে
অনলাইন ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে আজ ২ জানুয়ারি, ২০২৬ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তৃতীয়বারের মতো রাজধানীর শাহবাগ চত্বর অবরোধ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা করেন, “আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যার প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দেওয়া না হলে দেশব্যাপী সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ-মিছিল শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের সঙ্গে যদি কেউ বৈঠক করতে আসে, আপনারা অবশ্যই বৈঠক করবেন। কিন্তু সেই বৈঠক হতে হবে ওপেন। কোনো সিক্রেট বৈঠক নাই। দিল্লির সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন বৈঠক চলবে না।
‘বাংলাদেশের তিন পাশ থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, যার কারণে আমরা ভারতীয় আধিপত্যের বিপক্ষে কথা বলি। এখন যদি আমেরিকা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ খাটাইতে চায়, আমরা কি আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলব না? আমরা কি কারো কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিয়ে দিব? না, দিব না। আমাদের এই লড়াইটা কেবলমাত্র শুরু’-জানান তিনি।
ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ওসমান হাদি হচ্ছে আমাদের এই লড়াইয়ের পথটা দেখিয়ে গেছেন। এখন আমাদের সেই অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের কথা একটাই বাংলাদেশের সকল ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমাদের এই লড়াইটা করবো।”
সমাবেশে আব্দুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, শরিফ ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভারতীয় সাংস্কৃতিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ঘটনার ২১ দিন পার হলেও সরকার প্রকৃত খুনিদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে, যা সদিচ্ছার অভাবকেই ফুটিয়ে তোলে। ৭ জানুয়ারি শুধুমাত্র ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।
ইনকিলাব মঞ্চের শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে আজ ২ জানুয়ারি, ২০২৬ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তৃতীয়বারের মতো রাজধানীর শাহবাগ চত্বর অবরোধ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা করেন, “আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদি হত্যার প্রকৃত খুনিদের শনাক্ত ও পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দেওয়া না হলে দেশব্যাপী সরকার পতনের একদফা আন্দোলন শুরু হবে।”


















































